বুড়িচং উপজেলা প্রতিনিধি :- কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলার রাজাপুর গ্রামে ড্রেজার (মাটি কাটার ভারী যন্ত্র) ব্যবহার করে অবৈধভাবে ফসলি জমি ও নদী তীর খননের অভিযোগে এলাকায় চরম উদ্বেগ ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ক্ষমতার অপ-ব্যবহার করে ড্রেজারে দিয়ে এক জায়গাতে মাটি ঝড় করে, প্রতিদিন হাজার হাজার ট্রাক্টর দিয়ে মাটি কেটে ঘুঙ্গুর নদীর পশ্চিম ও পূর্ব পাশের বিস্তীর্ণ ফসলি জমি ধ্বংস করা হচ্ছে, যার ফলে পরিবেশের মারাত্মক ক্ষতি সাধিত হচ্ছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রাজাপুর গ্রামের বাসিন্দা বাকিরুল ইসলাম বাহাদুর, কুমিল্লা আদর্শ সদর উপজেলার রাজবাড়ি ভূমি অফিসে সার্ভেয়ার হিসেবে চাকরিরত রয়েছেন বলে জানা যায়। তার প্রভাবেই অবৈধ মাটি ভরাট ও খনন কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে একটি সিন্ডিকেট মহল। সে সহ তার চাচা তানভির আহম্মেদ রঞ্জু মিলে গড়ে তুলেছেন এই সিন্ডিকেট। জানা যায় যে নিজ মালিকানাধীন জমিসহ আশপাশের ফসলি জমিতে ড্রেজার ব্যবহার করে মাটি ভরাটের কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছেন বলে স্থানীয়দের অভিযোগ। বাকিরুল ইসলাম বাহাদুর প্রভাব খাটিয়ে নির্বিঘ্নে এই কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন এবং প্রশাসনের সঙ্গে সুসম্পর্কের কথা বলে সাধারণ মানুষকে ভয়ভীতি দেখিয়ে এই কার্যক্রম পরিচালনার অভিযোগ উঠেছে।
[caption id="attachment_13973" align="alignnone" width="300"]
ক্ষমতার অপ-ব্যবহার করে বুড়িচংয়ে ড্রেজার তাণ্ডব, ফসলি জমি ও নদী তীর ধ্বংসের মুখে[/caption]
উল্লেখ্য যে, রাজাপুর গ্রামের তানভীর আহমেদ রঞ্জু ও আবুল কালাম আজাদ নামে দুই ব্যক্তি স্থানীয় বাজারের মালিক হিসেবে পরিচিত হলেও এই অবৈধ খনন কার্যক্রমে সক্রিয় ভূমিকা রাখছেন। একই সঙ্গে ড্রেজার মেশিনের মালিক হিসেবেও তাদের নাম উঠে এসেছে। এছাড়া আবু কাউসার নামের আরেক ব্যক্তি তার মালিকানাধীন ড্রেজার দিয়ে ঘুঙ্গুর নদীর পশ্চিম পাশে অবস্থিত ফসলি জমিতে ব্যাপক খনন চালাচ্ছেন বলে স্থানীয়রা অভিযোগ রয়েছে।
রাজাপুর গ্রামের পশ্চিম অংশে ঘুঙ্গুর নদীর পূর্ব তীরে মাঝ মাঠের উর্বর ফসলি জমিতে একাধিক ড্রেজার একযোগে রাত-দিন মাটি উক্তলনের তাণ্ডব চালাচ্ছে। এ-সব জমি থেকে কাটা মাটি ট্রাক্টর যোগে বিভিন্ন স্থানে সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে। প্রতিদিন এইভাবে মাটি বোঝাই করে হাজার হাজার ট্রাক্টর ও ড্রাম ট্রাক যোগে যাতায়াতের ফলে জমির স্বাভাবিক স্তর নষ্ট হয়ে যাচ্ছে, কৃষি জমি অনাবাদি হয়ে পড়ছে এবং নদী তীর ভাঙনের ঝুঁকিও বেড়েছে এবং পরিবেশ চরম ভাবে দূষিত হয়ে, ধ্বংসের মুখে পরছে আশেপাশের গাছ-গাছালি।
স্থানীয় কৃষকদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে এই অবৈধ কার্যক্রম চললেও ভয়ের কারণে কেউ প্রকাশ্যে প্রতিবাদ করতে পারছেন না। প্রভাবশালী মহলের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার কারণে প্রতিবাদ করলে হয়রানি বা ক্ষতির শঙ্কা রয়েছে বলে তারা জানান। ফলে এলাকার সাধারণ মানুষ নীরবে ক্ষতি সহ্য করতে বাধ্য হচ্ছেন।
পরিবেশ সচেতন মহল মনে করছে, এভাবে অবাধে ফসলি জমি ও নদী তীর খনন চলতে থাকলে শুধু কৃষি উৎপাদনই নয়, পুরো এলাকার পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য মারাত্মক হুমকির মুখে পড়বে। ভবিষ্যতে জলাবদ্ধতা, নদী ভাঙন ও কৃষি সংকট আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করতে পারে।
এ বিষয়ে রাজাপুর গ্রামের বাসিন্দা বাকিরুল ইসলাম বাহাদুর, কুমিল্লা আদর্শ সদর উপজেলার রাজবাড়ি ভূমি অফিসে সার্ভেয়ারের সংঙ্গে মুঠো ফোনে কথা বললে তিনি জানান যে উক্ত জমিটি আমার চাচা খনন কার্যক্রম চালাচ্ছেন তবে এখানে আমাদেরও কিছু জমি ভরাট হচ্ছে বলেও তিনি স্বীকার করেন। ড্রেজার কার্যক্রম বৈধ কিনা জানতে তিনি এমর্মে কোন উত্তর দেয়নি। তার চাচা তানভির আহম্মেদ রঞ্জু"র সাথে কথা বললে তিনি জানান নিজের জমি ভরাট করছেন তবে পুরো উপজেলাতে ড্রেজার চালাচ্ছেন তাদেরকে কি আপনাদের চোখে পরে না!
এ বিষয়ে এলাকাবাসী ও সচেতন মহল অবিলম্বে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। তারা উক্ত বিষয়ে সুষ্ঠু তদন্ত, অবৈধ ডেজার কার্যক্রম বন্ধ এবং জড়িত ব্যক্তি ও চক্রের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জোর দাবি জানিয়েছে।
প্রধান সম্পাদক : জুয়েল খন্দকার
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : এস এম রাশেদ হাসান
নির্বাহী সম্পাদক : গাজী ওয়ালিদ আশরাফ সামী
বার্তা ও বানিজ্যিক কার্যালয় : ১০/৩, টয়েনবি সার্কুলার রোড, মতিঝিল ঢাকা-১০০০
হট-লাইন নাম্বার : ০১৯৮৮৬৬৩৭৮২, ০১৯৬৭৯৯৯৭৬৬.
স্বত্ব © ২০২৫ দেশপত্র