
উদ্যোক্তা মোঃ গোলাম জিলানী টিটুর সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পর্যবেক্ষণ ওসমান হাদীদের মত মানুষদের আসলে মৃত্যু নেই। একজন হাদী নেই কিন্তু বাংলার ঘরে ঘরে আজ লাখো হাদীর জন্ম হয়ে গেছে। আমার মনে হয় না যারা হাদী হত্যাকান্ডের জন্য অভিযুক্ত তারা কোনোভাবে লাভবান হতে পেরেছে বা তাদের উদ্দেশ্য সাধন হয়েছে! অপরদিকে জীবিত হাদীর চেয়ে নাকি মৃত হাদী অনেক বেশি শক্তিশালী। ফলে সমাধীস্থ হয়েছেন জাতীয় কবির পাশাপাশি বিপুল সন্মানে। বিচারের দাবিতে ব্যাপক আন্দোলনের কথা শোনা গেলেও আস্তে আস্তে স্তিমিত হয়ে যাচ্ছে। শোনা যাচ্ছিল নির্বাচনও নাকি পিছিয়ে যাবে কিন্তু কই! আসলে লাভের লাভ কোন পক্ষেরই হয়নি শুধু এতিম হল তার দশ মাসের সন্তানটি। তার জানাযায় এত মানুষের উপস্থিতি সত্যি আমাকে অবাক করেছে, মনে মনে ভেবেছিলাম এই উপস্থিতির সবাই যদি ১০ টাকা করেও দিয়ে যেত তাহলে হাদীর সন্তানের ভবিষ্যৎ অনিশ্চয়তা অনেকটাই কেটে যেত। এতে করে এদেশে বীরের জন্ম হতো বেশি বেশি। জানিনা হাদীর এই আধিপত্যবাদ বিরোধী এই অনমনীয় দর্শন জাতি কতটা ধারণ করবে কতদিন ধারণ করবে!
হাদীর মৃত্যু যেমন ষড়যন্ত্রময় ছিল তেমনি হাদী যে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে চেয়েছিলেন সেখানেও ষড়যন্ত্র এখনো চলমান। আমরা এখনো নিশ্চিত হতে পারিনি সঠিক সময়ে নির্বাচন টি হবে কিনা! একটি চিহ্নিত রাজনৈতিক দলের নারীকর্মীরা যেভাবে জায়গায় জায়গায় কেওয়াজ সৃষ্টি করছে ভোটারদের বিকাশ নং নিচ্ছে, ফোন নাম্বার নিচ্ছে, এনআইডি নং নিচ্ছে, লোভ দেখাচ্ছে। এসবের বিরুদ্ধে বিএনপি সহ অন্যান্য দলের প্রস্তুতি কি! ব্যালট পেপারে ধানের শীষ একেবারে মাঝ বরাবর ভাঁজ করার জায়গায় রাখা হয়েছে ষড়যন্ত্রমূলকভাবে। এতে করে প্রত্যেকটা ভোটে নষ্ট হওয়ার সুযোগ থেকে যায়। ব্যালট পেপার কলাম আকৃতির পরিবর্তে রো আকৃতির করতে হবে।
গুপ্ত বাহিনীর ওসি ডিসিদের লিস্ট জনগণের হাতে আছে, এরা যদি নির্বাচন ম্যানুপুলেট করতে চায় সেক্ষেত্রে বিক্ষুব্ধ কর্মীদের নিয়ন্ত্রণে রাখা বড় রাজনৈতিক দলের পক্ষে সম্ভব নাও হতে পারে! প্রবাসী ভাইবোনদের পোস্টাল ব্যালটে ভোটদান প্রক্রিয়া এখনো জনগণের সামনে একটি ধোঁয়াশা। শোনা যাচ্ছে একজনের কাছেই হাজার হাজার ব্যালট পেপার পাঠানো হয়েছে এখন সেই ব্যক্তি যদি কোন একটি বিশেষ রাজনৈতিক দলের এজেন্ডা বাস্তবায়নে লিপ্ত হয় তাহলে পোস্টাল ব্যালটে ভোটদান ম্যানুপুলেট হতে বাধ্য। মধ্যপ্রাচ্যে একটি বিশেষ রাজনৈতিক দলের এ নিয়ে নানা গুপ্ত কর্মকান্ড ইতিমধ্যেই বেরিয়ে আসছে। যারা পোস্টাল ব্যালটে ভোট দিবেন তাদের ভোটটি কোন নির্বাচনী এলাকায় যুক্ত হবে সেটা পরিষ্কার করার দাবি রাখে। এটাতে জালিয়াতি করার সুযোগ তৈরি হলে এটাই এবার গেম চেঞ্জার হতে পারে।
সর্বোপরি দেশের এই ক্রান্তি লগ্নে জাতির আশা-আকাঙ্ক্ষার শেষ বাতিঘর জননেতা তারেক রহমান। এদেশের মানুষ ইচ্ছায় হোক অনিচ্ছায় হোক জননেতা তারেক রহমানের প্রতিটি স্টেপ গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। রিক্সা শ্রমিকদের সাথে তার মত বিনিময় জাতিকে দারুন ভাবে উদ্বেলিত করেছে। আমি চাইবো এই প্রক্রিয়া যাতে থেমে না যায়! এদেশের প্রান্তিক কৃষক, জেলে, ক্ষুদ্র তরকারি ব্যবসায়ী, সিএনজি চালক, বাস-ট্রাক শ্রমিক সবার সাথেই একই ধরনের মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হোক। এই মুহূর্তে একমাত্র তিনিই পারেন জাতিকে ঐক্যবদ্ধ করে স্বাধীনতা সার্বভৌমত্ব রক্ষা করে উন্নতির মহাসোপানে এগিয়ে নিতে।


