শিরোনাম
বেরোবির নিয়োগে জালিয়াতির অভিযোগ দুদকের, সরেজমিন অভিযান রংপুরে পুলিশের বিশেষ অভিযানে ১৬৮ লিটার চোলাই মদ জব্দ, গ্রেফতার-১ বাংলাদেশ–পাকিস্তান যুদ্ধবিমান আলোচনা দক্ষিণ এশিয়ার আকাশে নতুন সমীকরণ তারেক রহমানের সঙ্গে কুমিল্লা বিএনপির নেতৃবৃন্দের সৌজন্য সাক্ষাৎ রুমিন ফারহানার বিরুদ্ধে ‘মব সৃষ্টির’ অভিযোগ, আইনানুগ ব্যবস্থার অনুরোধ রাণীশংকৈলে মহলবাড়ী বন কালী মা’র তৃতীয়তম পূজা অনুষ্ঠিত  নিখোঁজের পাঁচ দিন পর হাত-পা বাঁধা স্কুলছাত্রীর লা’শ উদ্ধার প্রশাসনের সুদৃষ্টিতে জনসাধারণে স্বস্তি-ভাঙ্গুড়ায়” দখলদার,মাদক ও ভেজালকারীদের বিরুদ্ধে ধারাবাহিক অভিযান সংস্কার চান, তাহলে উত্তরটা “হ্যাঁ” বলতে হবে: রিজওয়ানা হাসান স্বেচ্ছাসেবক দল নেতাকে ছুরিকাহত করে ক্ষতস্থানে লবণ ছিটিয়ে দেওয়ার অভিযোগ জামাতের বিরুদ্ধে

প্রশাসনের সুদৃষ্টিতে জনসাধারণে স্বস্তি-ভাঙ্গুড়ায়” দখলদার,মাদক ও ভেজালকারীদের বিরুদ্ধে ধারাবাহিক অভিযান

Chif Editor

প্রভাষক গিয়াস উদ্দিন সরদার, বিশেষ প্রতিনিধি :- দখলদার,মাদক ও ভেজালকারীদের বিরুদ্ধে ধারাবাহিক অভিযানে বদলাচ্ছে ভাঙ্গুড়ার চিত্র। ভাঙ্গুড়া উপজেলায় অবৈধ দখলদার ও ভেজাল পণ্য প্রস্তুতকারীদের বিরুদ্ধে প্রশাসনের কঠোর অবস্থানের জন্য দৃশ্যমান পরিবর্তন লক্ষ্য করা যাচ্ছে। ভাঙ্গুড়া উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ মিজানুর রহমান দায়িত্ব গ্রহণের পর নিয়মিত অভিযান, মোবাইল কোর্ট এবং ভূমি ও পৌর সেবায় সংস্কারের ফলে সাধারণ জনগণের মধ্যে স্বস্তি ফিরেছে এসেছে।

জানা গেছে, পাবনা জেলা শহর থেকে প্রায় ৪৫ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত ভাঙ্গুড়া উপজেলা-যা কৃষি,মৎস্য ও প্রাণিসম্পদে সমৃদ্ধ। খামার ভিত্তিক এই অঞ্চলের দুধ, ঘি ও দুগ্ধজাত পণ্যের সুনাম রয়েছে বাংলাদেশ জুড়ে। বিখ্যাত চলনবিল অঞ্চলের সংলগ্ন হওয়ায় এখানে রয়েছে বিস্তীর্ণ জলমহাল ও খাল-বিল। তবে এই সুনামকে পুঁজি করে দীর্ঘদিন ধরে একটি অসাধু চক্র নকল দুধ, ভেজাল ঘি, মধু, চিজ ও পনির তৈরি করে বাজারজাত করে আসছিল। একইসঙ্গে প্রভাবশালী মহল সরকারি খাস জমি, বিল ও জলমহাল দখল করে রাখে।

২০২৫ সালের অক্টোবর মাসে ভাঙ্গুড়া উপজেলায় যোগদানের পর থেকেই এসব অনিয়মের বিরুদ্ধে কঠোর অভিযান শুরু করেন ভাঙ্গুড়া উপজেলার এসিল্যান্ড মোঃ মিজানুর রহমান। গত তিন মাসে তিনি বিভিন্ন আইনে ১৭ টি মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করেন। এসব অভিযানে মাদক, ভেজাল দুধ,ঘি,মধু ও পনির উৎপাদন এবং বিক্রির সঙ্গে জড়িত ৭ জন কে দন্ড দেওয়া হয়। অভিযানে মোট ৮৩ হাজার ২০০ টাকা অর্থদন্ড আদায় করা হয়েছে।

মোবাইল কোর্টে জব্দ করা মালামালের আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ১৮ লাখ টাকা। এর মধ্যে মানবস্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর ১ হাজার ২০০ লিটার ভেজাল জেলি ও ২ হাজার ৫০ লিটার ভেজাল মধু ধ্বংস করা হয়। ব্যবহারযোগ্য কিছু পণ্য স্থানীয় একটি এতিমখানা মাদ্রাসায় বিতরণ করা হয়েছে।

আরোও জানা গেছে, অবৈধ দখল উচ্ছেদেও নেওয়া হয়েছে কার্যকর পদক্ষেপ।

দীর্ঘদিন ধরে স্থবির থাকা সরকারি ভিপি ‘ক’ গেজেটভুক্ত সম্পত্তির লিজ কার্যক্রম পুনরায় চালু করা হয়। এ পর্যন্ত লিজমানি হিসেবে আদায় হয়েছে ২ লাখ ৮২ হাজার ৩০০ টাকা। পাশাপাশি প্রায় ১০ একর ভিপি ‘ক’ গেজেটভুক্ত জমি উদ্ধার করা হয়েছে, যা লিজের আওতায় আনার প্রক্রিয়া চলমান। এছাড়া সরকারের দখল থেকে বেহাত হওয়া প্রায় ২ একর খাস জমি উদ্ধার করা হয়েছে।

ভূমি অফিসের সেবায় এসেছে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি। প্রায় ২ হাজার নামজারি মামলা নিষ্পত্তি করা হয়েছে। যেখানে আগে একটি নামজারি সম্পন্ন করতে গড়ে ৫৯ দিন সময় লাগত, বর্তমানে তা কমে এসেছে ১৯ দিনে। নামজারি বাবদ রাজস্ব তহবিলে জমা পড়েছে ১৫ লাখ টাকার বেশি। পাশাপাশি ভূমি উন্নয়ন কর থেকে আদায় হয়েছে প্রায় ১৪ লাখ টাকা। দীর্ঘদিন ঝুলে থাকা ৪৭টি মিসকেস নিষ্পত্তি হওয়ায় ভোগান্তি কমেছে ভূমি মালিকদের।

এছাড়াও, অতিরিক্ত দায়িত্ব হিসেবে ভাঙ্গুড়া পৌর প্রশাসকের দায়িত্ব গ্রহণের পর ভাঙ্গুড়া পৌরসভার উন্নয়ন কার্যক্রমেও গতি এসেছে। প্রথমবারের মতো ইমারত অনুমোদন কমিটি গঠন করে সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। অনুমোদনবিহীন শতাধিক ভবন মালিক কে নোটিশ দেওয়া হয়েছে। দীর্ঘদিন বন্ধ থাকা উন্নয়ন প্রকল্প পুনরায় চালু করা হয়েছে। পৌর কর আদায় ও ট্রেড লাইসেন্স নবায়ন কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে। দীর্ঘ ১০ বছর ধরে যারা পৌর কর ও ট্রেড লাইসেন্স নবায়ন করেননি, তাদের কাছ থেকেও কর আদায় শুরু হয়েছে।

পৌর নাগরিকদের জন্য চালু করা হয়েছে ডিজিটাল সেবা, উন্নত করা হয়েছে সড়কবাতি ব্যবস্থাপনা, পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম, মশক নিধন এবং যানজট ব্যবস্থাপনা।

স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুল কাদের বলেন, আগে ভূমি অফিসে কাজ করতে গেলে অনেক ঝামেলা হত। এখন দ্রুত কাজ হচ্ছে, দখলদারদের দাপটও কমেছে। ভাঙ্গুড়া পৌরসভার বাসিন্দা রওশন আরা বেগম বলেন, ভেজাল খাবার নিয়ে আমরা আতঙ্কে থাকতাম। এখন প্রশাসন নিয়মিত অভিযান চালাচ্ছে, এতে সাধারণ মানুষ উপকার পাচ্ছে।

প্রশাসনের ধারাবাহিক এসব উদ্যোগে ভাঙ্গুড়ার সাধারণ মানুষের মধ্যে নতুন করে আশার সঞ্চার হয়েছে। দীর্ঘদিন অবহেলিত এই জনপদ ধীরে ধীরে শৃঙ্খলা ও উন্নয়নের পথে ফিরছে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।

এ বিষয়ে ভাঙ্গুড়া উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) মোঃ মিজানুর রহমান বলেন, আমি সব সময় চাই ভাঙ্গুড়া উপজেলা সবদিক থেকে এগিয়ে যাক। ভূমি সেবা নিতে এসে কেউ যেন হয়রানির শিকার না হয়, সে বিষয়ে আমি কঠোর। অবৈধ দখল ও ভেজাল পণ্যের বিরুদ্ধে অভিযান চলমান থাকবে। তবে সমাজের সব স্তরের মানুষের সহযোগিতা থাকলে এসব অপরাধ পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হবে বলে জানান তিনি।

Leave a Reply