
নিজস্ব প্রতিবেদক :- বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে রাষ্ট্রীয়ভাবে শোক পালন করা হলেও, কুমিল্লা মহানগর চক্ষু হাসপাতালের ভূমিকা নিয়ে জনমনে চরম ক্ষোভ ও প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ রাষ্ট্রীয় শোক পালন তো করেইনি, বরং কর্মচারীদের শোক প্রকাশেও বাধা দিয়েছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক পূর্বে প্রকাশিত সংবাদ অনুযায়ী, বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে সরকার ঘোষিত রাষ্ট্রীয় শোকের দিনে কুমিল্লা মহানগর চক্ষু হাসপাতালে কোনো ধরনের শোক কার্যক্রম পালন করা হয়নি। হাসপাতাল প্রাঙ্গণে কালো ব্যাজ ধারণ, শোক ব্যানার টানানো কিংবা দোয়া মহফিল— কোনোটিই করা হয়নি। এমনকি কর্মচারীদের অনেকেই গায়েবানা জানাজায় অংশ নিতে চাইলে কর্তৃপক্ষ তা করতে দেয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে।
এই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনায় স্থানীয় ও জাতীয় পর্যায়ের বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশ হলে বিষয়টি নিয়ে সমালোচনার ঝড় ওঠে। গণমাধ্যমে খবর প্রকাশের পরও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তাৎক্ষণিক কোনো ব্যাখ্যা বা দুঃখ প্রকাশ করেনি—যা পরিস্থিতিকে আরও বিতর্কিত করে তোলে।
সবচেয়ে বিস্ময়কর ও সমালোচিত ঘটনা ঘটে ঘটনার প্রায় ১১ দিন পর। অভিযোগ রয়েছে, গণমাধ্যমে সমালোচনার তোপের মুখে পড়ে হঠাৎ করেই হাসপাতাল প্রাঙ্গণে একটি শোক ব্যানার প্রদর্শন করা হয়। এরপর সেই ব্যানারের সামনে দাঁড়িয়ে হাসপাতালের সংশ্লিষ্ট কয়েকজন ব্যক্তি ফেসবুকে সেলফি তুলে পোস্ট করেন, যা অনেকের কাছে শোক নয়—বরং উপহাস ও মশকারার শামিল বলে প্রতীয়মান হয়।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ওই ছবি ছড়িয়ে পড়লে ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। অনেকেই প্রশ্ন তুলেছেন—যদি সত্যিই শোক পালন করার সৎ ইচ্ছা থাকত, তাহলে তা রাষ্ট্রীয় শোকের দিনেই কেন করা হয়নি? ১১ দিন পর ব্যানার টানিয়ে সেলফি তুলে দায় এড়ানোর নাটকীয় কৌশল, যা চরম রাষ্ট্রীয় সংবিধানের আইন লঙ্ঘন ও পরিপন্থি।
সচেতন মহলের মতে, এটি শুধু একটি রাজনৈতিক বা প্রশাসনিক ইস্যু নয়, এটি রাষ্ট্রীয় শোকের মর্যাদা ও শিষ্টাচারের প্রশ্ন। সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও দেশের গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বের মৃত্যুতে রাষ্ট্রীয় শোক পালনের নির্দেশ অমান্য করা গুরুতর অবহেলা ও দায়িত্বহীনতার শামিল।
এ বিষয়ে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে এখনো পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক ও সন্তোষজনক বক্তব্য পাওয়া যায়নি। প্রশাসনের নিরবতা এবং দায়সারা আচরণ পরিস্থিতিকে আরও প্রশ্নবিদ্ধ করছে।
স্থানীয় নাগরিক সমাজ ও রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, রাষ্ট্রীয় শোক পালন না করা এবং পরে লোক দেখানো কার্যক্রম চালানো শুধু অনৈতিক নয়, এটি প্রতিষ্ঠানের ভাবমূর্তিকেও ক্ষুণ্ন করে। তারা অবিলম্বে বিষয়টির নিরপেক্ষ তদন্ত এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
এই ঘটনায় প্রমাণ হয়— রাষ্ট্রীয় নির্দেশনা ও শোকের মর্যাদা যদি এভাবে উপেক্ষিত হয়, তবে তা গণতান্ত্রিক শিষ্টাচার ও প্রাতিষ্ঠানিক শৃঙ্খলার জন্য অশনিসংকেত। এ বিষয়, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কেন জবাবদিহিতার আওতাধীন আসবে না?


