
অনলাইন ডেস্ক :- সাভারে ভবঘুরে পরিচয়ে একের পর এক নৃশংস হত্যাকাণ্ডে গ্রেপ্তার হওয়া সিরিয়াল কিলারের পরিচয় নিয়ে চাঞ্চল্যকর তথ্য জানিয়েছে পুলিশ। গ্রেপ্তারের পর নিজেকে ‘মশিউর রহমান খান সম্রাট’ বলে পরিচয় দিলেও তার প্রকৃত নাম সবুজ শেখ বলে নিশ্চিত করেছে পুলিশ।
পুলিশ জানায়, সবুজ শেখের বাবার নাম পান্না শেখ। তিন ভাই ও চার বোনের মধ্যে তিনি দ্বিতীয়। তার বড় বোনের নাম শারমিন। তার জন্মস্থান ও পৈতৃক বাড়ি মুন্সিগঞ্জ জেলার লৌহজং থানার হলুদিয়া ইউনিয়নের মোসামান্দা গ্রামে। পরিবারের একাংশ বরিশাল এলাকায় বসবাস করে।
পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, নাম ও পরিচয় গোপন রেখে বিভিন্ন এলাকায় ভবঘুরে নারীদের সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপনের ফাঁদ পেত সবুজ। পরে তাদের পরিত্যক্ত ও নির্জন ভবনে নিয়ে যেত। ওই নারীরা অন্য কারো সঙ্গে কিংবা অন্য কেউ তাদের সঙ্গে অনৈতিক সম্পর্কে জড়ালে ক্ষিপ্ত হয়ে সে তাদের হত্যা করত। এসব হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে আদালতে দেওয়া তার স্বীকারোক্তি যাচাই–বাছাই করা হচ্ছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
সোমবার পুলিশ ১০ দিনের রিমান্ড চেয়ে তাকে আদালতে হাজির করলে জিজ্ঞাসাবাদে সে ছয়টি হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে। ঢাকার চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট তাজুল ইসলামের আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি শেষে সবুজ শেখ ওরফে সম্রাটকে সোমবার রাতেই কারাগারে পাঠানো হয়।
এর আগে সাভারে ছয় খুনের ঘটনায় আটক হওয়ার পর পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে এই সিরিয়াল কিলার খুনের দায় স্বীকার করে জানিয়েছেন ‘কোনো পাগল বা ভবঘুরেকে অনৈতিক যৌনাচারে লিপ্ত হতে দেখলেই তাদের “থার্টি ফোর” বা “সানডে মানডে ক্লোজ” করে দিতাম।’
হেলাল উদ্দিন জানান, নজরদারির অংশ হিসেবে গত শুক্রবার রাতে কমিউনিটি সেন্টার পরিদর্শনে গিয়ে এক কিশোরীকে সম্রাটের (ছদ্মনাম) বিছানায় শুয়ে থাকতে দেখা গেছে। এ সময় সম্রাট পাশেই দাঁড়িয়ে ছিলেন। জানতে চাইলে ওই কিশোরী সম্রাটকে তার ভাই বলে সম্বোধন করেন এবং তিন দিন আগে কমিউনিটি সেন্টারে এসেছেন বলে জানিয়েছিলেন। পরের রাতেই (শনিবার রাত) ওই কিশোরীরসহ দুজনকে হত্যার পর তাদের মরদেহ পুড়িয়ে দেন সম্রাট। পরদিন রোববার দুপুরের পর তাদের লাশ উদ্ধার করা হয়। পরে সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ দেখে খুনের সঙ্গে সম্রাটের জড়িত থাকার বিষয়টি নিশ্চিত হয়ে রোববার সন্ধ্যায় তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। গতকাল সোমবার আদালতে দেওয়া স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে তিনি ছয় খুনের সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন।
হেলাল উদ্দিন বলেন, ভবঘুরে ওই সিরিয়াল কিলার দিনের বেলায় থানার আশপাশে ঘোরাফেরা করলেও গভীর রাতে তার দেখা মিলত ঢাকা-আরিচা মহাসড়ক বা পদচারী-সেতুতে। যেসব ভবঘুরে বা পাগল নারী-পুরুষ রাতে পদচারী-সেতুতে ঘুমাতেন, তাদের কাউকে কাউকে ফুসলিয়ে তিনি পৌর কমিউনিটি সেন্টারে নিয়ে আসতেন। যারা তার কথায় কমিউনিটি সেন্টারে আসতেন, তারাই খুনের শিকার হতেন।
জানতে চাইলে সাভার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আরমান আলী বলেন, খুনি ধরা পড়েছেন এবং খুনের সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকারও করেছেন। এখন ভিকটিম, অর্থাৎ যারা খুন হয়েছেন, তাদের পরিচয় শনাক্তের কাজ চলছে।



