বিয়ের জন্যে পাত্রী দেখছিলো যুবক। পারিবারিক ভাবে পছন্দের পাত্রীর সাথে বিয়েও হয়। তবে বাসর রাতে বউ দেখে অবাক হয়ে যায় তিনি। ভুক্তভোগী বর রায়হান কবিরের অভিযোগ বিয়ের আগে দেখা কনে বদলে গেছে বাসর রাতে।
অভিযুক্ত বদলে যাওয়া কনে ঠাকুরগাঁও রাণীশংকৈল উপজেলার ভাণ্ডার এলাকার জিয়ারুল হকের মেয়ে জেমিন আক্তার। তার সাথে বিয়ে হয় একই জেলার পীরগঞ্জ উপজেলার চন্ডিপুর এলাকার মৃত ইব্রাহীমের ছেলে রায়হান কবিরের। দীর্ঘ সময় মিমাংসার চেষ্টায় ব্যর্থ হয়ে উভয় পক্ষ একে অপরের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা করেছে।
সোমবার (১৯ জানুয়ারী) এই ঘটনায় জামিন না মঞ্জুর হয়ে জেলহাজতে যেতে হয়েছে বর রায়হান কবিরকে। বিষয়টি মিমাংসার জন্যে বার বার দু'পক্ষ আলোচনায় বসলেও কোনো সমাধান হয়নি।
পরে ২৭ আগস্ট ছেলেপক্ষের বিরুদ্ধে ঠাকুরগাঁও আদালতে মেয়ের পিতা জিয়ারুল হক বাদি হয়ে মামলা দায়ের করেন। যেখানে ছেলে রায়হান ও তার দুলাভাই মানিক হাসানকে আসামি করা হয়। অপরদিকে ২ সেপ্টেম্বর ছেলেও মেয়ে পক্ষের বিরুদ্ধে একটা মামলা দায়ের করেন। সেখানে মেয়ের পিতা জিয়ারুল ও ঘটক মোতালেবকে আসামি করা হয়।
ঘটনার বিবরণে বর রায়হানের মামা বাদল বলেন, মোতালেব নামক এক ঘটকের মাধ্যমে আমার মামা রায়হান কবিরের বিয়ের জন্যে আমরা পাত্রী খুঁজছিলাম। জুলাই মাসের শেষের দিকে রাণীশংকৈলের শিবদিঘী এলাকার একটি চায়ের দোকানে পাত্রী দেখায় ঘটক মোতালেব। পাত্রী দেখে পাত্র ও উপস্থিত আমাদের সকলের পছন্দ হওয়ার বিষয়টি আমরা ঘটককে জানাই।
পরবর্তীতে মেয়ে পক্ষ আমাদের বাসায় আসলে আমাদের সাথে আত্মীয়তা করতে তারা সম্মত হয়। সেইসাথে নতুন করে দেখতে না গিয়ে সরাসরি বিয়ের প্রস্তুতি নিয়ে যাওয়ার অনুরোধ করে। ছেলের দুলাভাই মিজান একজন মালেশিয়া প্রবাসী। দ্রুতই তিনি দেশ ছেড়ে মালেশিয়া চলে যাবেন। আমরাও দ্রুতই বিয়ের কাজটি সম্পন্ন করতে চাইছিলাম। তাই আমরা নতুন করে আরে মেয়ে দেখার পর্বে না গিয়ে মেয়ে পক্ষের প্রস্তাবে সম্মত হই।
১ আগস্ট দুইটি মাইক্রো যোগে রাত ১১টায় আমরা মেয়ের বাসায় পৌঁছাই। বিয়ের পর্ব শেষ করে সকাল ৪টায় বাসায় ফিরে আসি। তবে বাসর রাতে আমার মামা বুঝতে পারে বিয়ে করা বউটি অন্য কেউ। যেই মেয়েকে ঘটক দেখিয়েছিলেন, সেই মেয়েটি বদলে গেছে।
বাদল বলেন, অতিরিক্ত মেকআপ থাকায় বিয়ের রাতে আমরা কনে পরিবর্তনের বিষয়টি বুঝতে পারিনি। তবে বাসর রাতে মেয়ে মুখ ধোয়ার পরে আমার মামা মেয়েকে দেখে বিষয়টি বুঝতে পারে। তাই ২ আগস্ট আমরা মেয়েকে তার বাবার বাসায় পাঠিয়ে দিয়ে প্রতারণার কারণ জানতে চাই। আমার নিশ্চিত এই ঘটনায় ঘটক ও মেয়ের বাবা পরিকল্পিতভাবে আমাদের সাথে প্রতারণা করেছে।
তবে মেয়ের পিতা জিয়ারুল বলছেন ভিন্ন কথা। তিনি বলেন, আমার কোনো ছেলে সন্তান নেই। আমার তিন মেয়ের মাঝে বড় মেয়ের বিয়ে হয়েছে, এটা ২য় সন্তান। মেয়েটি রাণীশংকৈল মহিলা কলেজে উচ্চমাধ্যমিক ২য় বর্ষের ছাত্রী। ছেলে পক্ষ বাসায় এসে আমার মেয়েকে দেখে গেছে। ৭০ জন বরযাত্রী এসেছিল বিয়ের অনুষ্ঠানে। এমন অবস্থায় বিয়ের রাতে কনে বদলের বিষয়টি বুঝতে না পারা অস্বাভাবিক। তারা বিয়ের আগে কোনো প্রকার যৌতুকের কথা বলেনি। তবে বিয়ের পরের দিনই তারা ১০ লাখ টাকা যৌতুক দাবি করে। আমি জমি বিক্রি করে দিতে রাজিও হই। তবে এক্ষেত্রে ৪ থেকে ৫ মাস সময় ছেয়েছিলাম। তারা সময় দিতে রাজি হয়নি। তাই আমার বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগ তুলছে।
ঘটক মোতালেব জানান, আমি বাইরে কোথাও মেয়ে দেখায়নি। মেয়ে দেখানো হয়েছিল মেয়ের বাসাতেই। পরে তারা নিজেরা মিলে হুট করে বিয়ের প্রক্রিয়া শেষ করেছে। আমি আর পরবর্তীকালের কোনো ঘটনা সম্পর্কে অবগত নই।
এই বিষয়ে ঠাকুরগাঁও বার কাউন্সিলের সভাপতি ও ছেলে পক্ষের উকিল জয়নাল আবেদিন জানান, ছেলে অভিযোগ করেছে মেয়ে পক্ষ ও ঘটক মিলে কনে বদলের মাধ্যমে তার সাথে প্রতারণা করেছে। এক্ষেত্রে প্রথমদিকে মীমাংসা শর্তে ছেলে রায়হান কবিরকে জামিন দিয়েছিল। তবে কোনো প্রকার মীমাংসা হয়নি। বিষয়টি বিচারাধীন আছে, আশা করছি সত্যের জয় হবে।
এই ঘটনায় জেলাজুড়ে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। তবে আদালতের বিচার প্রক্রিয়া সম্পন্নের মাধ্যমে সম্পূর্ণ সত্যের চিত্র জানার আশায় সাধারণ মানুষ।
প্রধান সম্পাদক : জুয়েল খন্দকার
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : এস এম রাশেদ হাসান
নির্বাহী সম্পাদক : গাজী ওয়ালিদ আশরাফ সামী
বার্তা ও বানিজ্যিক কার্যালয় : ১০/৩, টয়েনবি সার্কুলার রোড, মতিঝিল ঢাকা-১০০০
হট-লাইন নাম্বার : ০১৯৮৮৬৬৩৭৮২, ০১৯৬৭৯৯৯৭৬৬.
স্বত্ব © ২০২৬ দেশপত্র