
নিজস্ব প্রতিনিধি :- নওগাঁ সদর উপজেলার শিকারপুর গোয়ালী গ্রামের এক ব্যবসায়ীর কাছে সাংবাদিক পরিচয়ে চাঁদা দাবি এবং চাঁদা না দেওয়ায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে মানহানিকর তথ্য প্রচারের অভিযোগ উঠেছে রুহুল আমিন নামের এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে
। এ ঘটনায় নওগাঁ সদর মডেল থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, বিভিন্ন সময় সাংবাদিক পরিচয়ে সদর উপজেলার লাটাপাড়া এলাকার আব্দুর রশিদের ছেলে রুহুল আমিন ব্যবসায়ী আবুল কালাম আজাদের কাছে এক লাখ, দুই লাখ ও তিন লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন। চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে ব্যবসায়িক ক্ষতি ও সামাজিকভাবে হেয় প্রতিপন্ন করার হুমকি দেওয়া হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।
অভিযোগে আরও বলা হয়, গত ১২ জানুয়ারি ২০২৬ দুপুর আনুমানিক ১২টার দিকে সাংবাদিক পরিচয়ে মো. রুহুল আমিন তার ব্যবহৃত “Ruhul Amin” নামের ফেসবুক আইডি থেকে অভিযোগকারীর বিরুদ্ধে একাধিক মিথ্যা ও মানহানিকর পোস্ট প্রকাশ করেন। এসব পোস্টে অভিযোগকারীকে চুরি, অবৈধ কর্মকাণ্ড ও বিভিন্ন বিতর্কিত বিষয়ের সঙ্গে জড়িত দেখানো হয়, যা সম্পূর্ণ মিথ্যা ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করা হয়েছে।
পোস্টগুলোতে অভিযোগকারীর ছবি ও ভিডিও ব্যবহার করায় তার পারিবারিক ও সামাজিক সম্মান মারাত্মকভাবে ক্ষুণ্ন হয়েছে। বিষয়টি স্থানীয় একাধিক ব্যক্তি প্রত্যক্ষ করেছেন বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।
মকবুল বীজ সংরক্ষণাগার (কোল্ড স্টোরেজ)-এর সহকারী ম্যানেজার সাইদুর রহমান বলেন, “সেদিন আমাদের অফিসে দুজন ব্যক্তি এসে নিজেদের সাংবাদিক পরিচয় দেন। এরপর আমাদের প্রতিষ্ঠানের মালিক তাদের অফিসে নিয়ে আপ্যায়ন করেন। আপ্যায়নের পর রুহুল আমিন নামের একজন মোটা অঙ্কের চাঁদা দাবি করেন। চাঁদা না দেওয়ায় তিনি ফেসবুকে নানা ধরনের মিথ্যা ও ভিত্তিহীন গুজব ছড়াচ্ছেন। একজন সম্মানিত মানুষের বিরুদ্ধে এমন অপপ্রচারের তীব্র নিন্দা জানাই এবং প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।”
বীজ সংরক্ষণাগারের নিরাপত্তা প্রহরী ইনছের আলী বলেন, “সেদিন আমিও সেখানে উপস্থিত ছিলাম। সাংবাদিক পরিচয়ে আসা রুহুল আমিন স্যারের কাছে বড় অঙ্কের টাকা দাবি করলে আমি এর প্রতিবাদ জানাই। এরপর তিনি ক্ষিপ্ত হয়ে আরেকজনকে সঙ্গে নিয়ে চলে যান এবং পরে স্যারের নামে মিথ্যা গুজব ছড়ান। এই প্রতিষ্ঠান চালু হলে এলাকার মানুষের উন্নয়ন ও কর্মসংস্থান হবে, কিন্তু মিথ্যা অপবাদ দিয়ে আমাদের ক্ষতি করার চেষ্টা করা হচ্ছে। আমরা এর বিচার চাই।”
ব্যবসায়ী আবুল কালাম আজাদ বলেন, “রুহুল আমিন নামের একজন ব্যক্তি সাংবাদিক পরিচয়ে এসে আমার প্রতিষ্ঠানের কাগজপত্র দেখতে চান। আমি অফিসে বসেই সব কাগজ দেখিয়েছি। এক পর্যায়ে তিনি আমার কাছে মোটা অঙ্কের চাঁদা দাবি করেন। আমি চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তিনি রাগারাগি করে চলে যান এবং পরে আমার বিরুদ্ধে ফেসবুকে একের পর এক মিথ্যা ও মানহানিকর পোস্ট দিয়ে আমার সম্মান ক্ষুণ্ন করছেন।”
তিনি আরও বলেন, “সাংবাদিক পরিচয়ে চাঁদা না দেওয়ায় আমার বিরুদ্ধে যে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে এবং ব্যবসা বন্ধের হুমকি দেওয়া হচ্ছে, তার সুষ্ঠু বিচার চাই।”
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, এ ঘটনায় নওগাঁ সদর মডেল থানায় সাংবাদিক রুহুল আমিন ও ব্যবসায়ী আবুল কালাম আজাদ উভয় পক্ষই লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।
এ বিষয়ে নওগাঁ সদর মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) বলেন, “আমি উভয় পক্ষের লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। অভিযোগ আদালতে পাঠানো হয়েছে। আদালতের অনুমতি সাপেক্ষে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”


