প্রিন্ট এর তারিখঃ ফেব্রুয়ারী ১০, ২০২৬, ৩:৫৭ এ.এম || প্রকাশের তারিখঃ ফেব্রুয়ারি ১০, ২০২৬, ১২:২৮ পূর্বাহ্ণ
চট্টগ্রাম বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদের সমন্বয়ক আটক
অনলাইন ডেস্ক :- নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) ডিপি ওয়ার্ল্ডকে ইজারা দেওয়ার প্রক্রিয়া বন্ধের দাবিতে টানা কর্মবিরতি ও ধর্মঘটে নেতৃত্ব দেওয়া চট্টগ্রাম বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদের অন্যতম সমন্বয়ক মো. ইব্রাহীম খোকনকে আটক করা হয়েছে। সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় বন্দর এলাকা থেকে তাকে আটকের কথা জানিয়েছে পুলিশ।
চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার (জনসংযোগ) আমিনুর রশিদ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, “র্যাবের একটি দল উনাকে আটক করে বন্দর থানায় সোপর্দ করেছে। যাচাই-বাছাই শেষে পুলিশ পরবর্তী ব্যবস্থা নেবে।’ এদিকে ইব্রাহিম খোকনকে আটকের ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে চট্টগ্রাম শ্রমিক কর্মচারী ঐক্য পরিষদ (স্কপ)।
গণমাধ্যমে পাঠানো এক যৌথ বিবৃতিতে প্রতিবাদ জানান—জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দল চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিটির সভাপতি এএম নাজিম উদ্দিন ও সাধারণ সম্পাদক কাজী শেখ নুরুল্লাহ বাহার; শ্রম সংস্কার কমিশনের সদস্য ও টিইউসি চট্টগ্রাম জেলা কমিটির সভাপতি তপন দত্ত; স্কপ চট্টগ্রাম জেলার সমন্বয়ক এসকে খোদা তোতন ও ইফতেখার কামাল খান; ট্রেড ইউনিয়ন সঙ্ঘের সভাপতি খোরশেদুল আলম; বিএফটিইউসির সভাপতি কাজী আনোয়ারুল হক হুনি; বিএলএফের সভাপতি নুরুল আবসার তৌহিদ; সমাজতান্ত্রিক শ্রমিক ফ্রন্টের নেতা হেলাল উদ্দিন কবির ও বাংলাদেশ জাতীয় শ্রমিক ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক জাহেদ উদ্দিন শাহিন।
নেতৃবৃন্দ বলেন, প্রশাসন শান্তিপূর্ণ সমাধানের পথ পরিহার করে বারবার শ্রমিকদের সাংঘর্ষিক পরিস্থিতির দিকে ঠেলে দিচ্ছে। গতকাল বন্দরের পাঁচজন শ্রমিককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, আর আজ আবার ইব্রাহিম খোকনকে আটক করে প্রশাসন পরিকল্পিতভাবে পরিস্থিতি উত্তপ্ত করার উস্কানিতে লিপ্ত হয়েছে।
তাঁরা আরও বলেন, গতকাল গভীর রাতে অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘট কর্মসূচি প্রত্যাহারের পর যখন বন্দরের কার্যক্রম স্বাভাবিক ও স্থিতিশীলভাবে চলছিল, ঠিক তখনই প্রশাসনের এমন রহস্যজনক ও নেতিবাচক পদক্ষেপ গভীর সন্দেহের জন্ম দেয়। এটি স্পষ্টভাবে প্রমাণ করে যে, একটি মহল ইচ্ছাকৃতভাবে বন্দর পরিস্থিতি অশান্ত করার ষড়যন্ত্রে লিপ্ত রয়েছে। স্কপ নেতৃবৃন্দ অবিলম্বে ইব্রাহিম খোকনসহ গ্রেপ্তারকৃত সব শ্রমিক নেতাকর্মীর নিঃশর্ত মুক্তির দাবি জানান।
একই সঙ্গে আন্দোলনরত বন্দর শ্রমিকদের বিরুদ্ধে জারি করা হয়রানিমূলক সাময়িক বরখাস্ত ও দমনমূলক সকল আদেশ প্রত্যাহারের জোর দাবি জানান তারা। স্কপ বিশ্বাস করে, চট্টগ্রাম বন্দর দেশের অর্থনীতির প্রাণকেন্দ্র। এই বন্দরের শ্রমিকদের কণ্ঠরোধ করে কোনো টেকসই সমাধান সম্ভব নয়। অবিলম্বে দমননীতি পরিত্যাগ করে আলোচনার মাধ্যমে সমস্যার শান্তিপূর্ণ সমাধানে এগিয়ে আসার জন্য প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানানো হয়।আগের সপ্তাহে শনিবার (৩১ জানুয়ারি) এনসিটি ইজারা প্রক্রিয়া বন্ধের দাবিতে আট ঘণ্টার কর্মবিরতি পালন করে বন্দর জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দল।
এরপর চট্টগ্রাম বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদের ব্যানারে পরের ২ দিন আট ঘণ্টা ও তিন দিন টানা কর্মবিরতির পর নৌ উপদেষ্টার আশ্বাসে দুই দিন স্থগিত করা হয়েছিল। সর্বশেষ রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) সকাল আটটা থেকে চার দাবিতে চট্টগ্রাম বন্দরে জেটি, ইয়ার্ড, টার্মিনাল ও বহির্নোঙরে অনির্দিষ্টকালের শ্রমিক ধর্মঘট শুরু করেছিল বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদ। দাবিগুলো ছিল- এনসিটি ডিপি ওয়ার্ল্ডকে ইজারা না দেওয়ার ঘোষণা, বন্দরের বর্তমান চেয়ারম্যান রিয়ার অ্যাডমিরাল এসএম মনিরুজ্জামানকে প্রত্যাহার করা, বিগত আন্দোলনে যেসব কর্মচারীর বিরুদ্ধে বদলি, চার্জশিট, সাময়িক বরখাস্ত, পদাবনতিসহ নানাবিধ শাস্তিমূলক যে ব্যবস্থা নিয়েছে তা বাতিল করে প্রত্যেক কর্মচারীকে চট্টগ্রাম বন্দরের স্ব স্ব পদে পুনর্বহাল। এতে সমর্থন জানিয়েছিল স্কপ, উদ্বেগ জানিয়েছেন বিজিএমইএ সহ শীর্ষ ব্যবসায়ী সংগঠন ও বন্দর ব্যবহারকারীরা। রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে বন্দর ভবনের সামনে সাংবাদিকদের ব্রিফিং করেন বন্দর চেয়ারম্যান রিয়ার অ্যাডমিরাল এসএম মনিরুজ্জামান। ঢাকায় ব্রিফিং করেন নৌ পরিবহন উপদেষ্টা ও বিডার চেয়ারম্যান। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও রমজানের পণ্য খালাস করার স্বার্থে চট্টগ্রাম বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদের ধর্মঘট স্থগিত করা সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) সকাল আটটা থেকে। পরিষদের সমন্বয়ক মোহাম্মদ হুমায়ুন কবীর ও মোহাম্মদ ইব্রাহিম খোকনের সই করা এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে স্থগিতের বিষয়টি জানানো হয়।
প্রধান সম্পাদক : জুয়েল খন্দকার
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : এস এম রাশেদ হাসান
নির্বাহী সম্পাদক : গাজী ওয়ালিদ আশরাফ সামী
বার্তা ও বানিজ্যিক কার্যালয় : ১০/৩, টয়েনবি সার্কুলার রোড, মতিঝিল ঢাকা-১০০০
হট-লাইন নাম্বার : ০১৯৮৮৬৬৩৭৮২, ০১৯৬৭৯৯৯৭৬৬.
স্বত্ব © ২০২৬ দেশপত্র