
নিজস্ব প্রতিবেদকঃ
বরিশালে কর্মরত সাংবাদিকদের মধ্যে চরম অসন্তোষ বিরাজ করছে জেলা প্রশাসনের বিরুদ্ধে। আসন্ন নির্বাচনকে সামনে রেখে পেশাগত দায়িত্ব পালনের জন্য প্রয়োজনীয় ‘নির্বাচনী কার্ড’ ইস্যুতে টালবাহানা ও হয়রানির অভিযোগ উঠেছে জেলা প্রশাসক (ডিসি) খায়রুল আলম সুমনের বিরুদ্ধে।
ভুক্তভোগী সংবাদকর্মীদের দাবি, নির্ধারিত প্রক্রিয়া অনুসরণ করে আবেদন করার পরও কার্ড প্রদানে অযৌক্তিক বিলম্ব করা হচ্ছে। কোনো সুস্পষ্ট কারণ ছাড়াই আবেদন ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তারা। সাংবাদিকদের একাংশের মতে, অতীতে জেলা প্রশাসককে ঘিরে প্রকাশিত কিছু সংবাদের জেরে ব্যক্তিগত বিরূপ মনোভাব থেকেই এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।
সাংবাদিক সমাজের নেতৃবৃন্দ এই ঘটনাকে গণমাধ্যমের স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ হিসেবে দেখছেন। তাদের ভাষ্য, নির্বাচনের মতো স্পর্শকাতর সময়ে তথ্য সংগ্রহ ও সংবাদ পরিবেশনে বাধা সৃষ্টি করা গণতান্ত্রিক চর্চার পরিপন্থী।
একজন স্থানীয় সাংবাদিক সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লিখেছেন, “সংবাদ প্রকাশের মাসুল দিচ্ছেন বরিশালের সাংবাদিকরা।” আরেকজন মন্তব্য করেন, “ক্ষমতার প্রভাব দেখানো হচ্ছে, কিন্তু সাংবাদিক সমাজ ঐক্যবদ্ধ থাকলে তা মোকাবিলা করা সম্ভব।”
নির্বাচনী তথ্য সংগ্রহের জন্য কার্ড অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ নথি। কার্ড ছাড়া অনেক ক্ষেত্রে ভোটকেন্দ্র বা সংশ্লিষ্ট দপ্তরে প্রবেশ ও তথ্য সংগ্রহে বাধা সৃষ্টি হয়। ফলে বিলম্বের কারণে মাঠপর্যায়ের সংবাদ সংগ্রহ ও প্রতিবেদন প্রণয়ন ব্যাহত হচ্ছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
এ বিষয়ে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো সন্তোষজনক ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি। তবে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, কার্ড ইস্যুর প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
জেলা প্রশাসক খায়রুল আলম সুমন ২৯তম বিসিএস ব্যাচের কর্মকর্তা। অতীতে তার বিরুদ্ধে ব্যক্তিগত জীবনে গুরুতর অভিযোগ ওঠে, যা গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়।
সূত্র মতে, কিশোরগঞ্জের বাজিতপুরে সহকারী কমিশনার (ভূমি) হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে তার বিরুদ্ধে যৌতুকসংক্রান্ত একটি মামলা দায়ের হয়। ২০১৬ সালের এপ্রিলে আদালত তাকে ও তার মাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন বলে মামলার নথিতে উল্লেখ রয়েছে। শুনানি শেষে আদালত রিমান্ড ও জামিন আবেদন নাকচ করেন।
মামলার অভিযোগে বলা হয়, বিয়ের পর যৌতুকের দাবিতে নির্যাতনের ঘটনা ঘটে। পরবর্তীতে এ ঘটনায় ওয়ারী থানায় মামলা দায়ের হয়।
এছাড়া জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে অভিযোগের ভিত্তিতে তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলাও হয়েছিল বলে জানা যায়। যদিও পরবর্তীতে তিনি পদোন্নতি লাভ করেন। তার ‘ব্যক্তিগত ডাটা শিটে’ বর্তমানে বৈবাহিক অবস্থা ‘অবিবাহিত’ হিসেবে উল্লেখ রয়েছে বলে সূত্র জানিয়েছে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে খায়রুল আলম সুমন বলেন, “এসব আমার ব্যক্তিগত বিষয়। বিভাগীয় বিষয়গুলো কর্তৃপক্ষ অবগত আছেন। এ বিষয়ে আমি কোনো মন্তব্য করতে চাই না।”
জনপ্রশাসন বিশেষজ্ঞদের মতে, জেলা প্রশাসকের পদ কেবল প্রশাসনিক নয়—নৈতিক নেতৃত্বেরও প্রতীক। একজন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ থাকলে তা জনমনে আস্থার সংকট তৈরি করতে পারে।
এদিকে বরিশালের সাংবাদিক সংগঠনগুলো বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করছে এবং প্রয়োজন হলে কর্মসূচি ঘোষণার ইঙ্গিত দিয়েছে। সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরাও নির্বাচনী স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে দ্রুত সাংবাদিকদের কার্ড প্রদান করার আহ্বান জানিয়েছেন।
নির্বাচনকে সামনে রেখে প্রশাসন ও গণমাধ্যমের পারস্পরিক সহযোগিতা জরুরি বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।



