
কুমিল্লা প্রতিনিধি :- কুমিল্লা সদর দক্ষিণে কথিত বিএনপি নেতা পরিচয় দানকারীর আব্দুল্লাহ আল বাকি নজর, ফসলি জমি, নদী, খাল, বিল সহ বিভিন্ন ফাকা জমির দিকে। নেতা বাকির নজরে ছাড়খার বিভিন্ন জমি। বাকি কুমিল্লা সদর দক্ষিণের নেতা হলেও কুমিল্লা জেলার সদর দক্ষিণ, লালমাই, চৌদ্দগ্রাম উপজেলা সহ বিভিন্ন উপজেলায় সিন্ডিকেটের মাধ্যমে মাটি ব্যবসার আধিপত্য বিস্তার লাভ করছেন। অবৈধ ভাবে মাটি কেটে কোটি কোটি টাকার মালিক হয়েছেন এই বিএনপির নামে ব্যবহার করে কথিত নেতা আব্দুল্লাহ আল বাকি। আন্দোলনের পর অর্ধ কোটি টাকার দামি গাড়ি ছাড়া এখন আর বাকি চলাফেরা করেন না। আব্দুল্লাহ আল বাকি, পিতা-মৃত: রোশন আলী, সাং: সুয়াগাজী পশ্চিম বাজার সদর দক্ষিণ কুমিল্লার বাসিন্দা। অনুসন্ধানে জানা যায় বাকি বিএনপির কোন পোস্ট পদবিতে নেই কিন্তু বিএনপির নেতা পরিচয় দিয়ে এই অপকর্মের সাথে লিপ্ত হয়ে বিএনপির নাম ব্যবহার করে।
কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে কৃষিজমি থেকে অবৈধভাবে মাটি কাটার অভিযোগে বিএনপি নেতা বাকী সহ আরও চারজনকে আসামি করে মামলা দায়ের করেছেন চৌদ্দগ্রাম উপজেলা প্রশাসন। মঙ্গলবার (৩১ ডিসেম্বর) রাতে চৌদ্দগ্রাম মডেল থানাধিন ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) সীমা আক্তার বাদী হয়ে এ মামলা দায়ের করেন।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, সদর দক্ষিন উপজেলার বিএনপি নেতা বাকী গত ৩০ ডিসেম্বর রাত সাড়ে ১২টার সময় চৌদ্দগ্রাম উপজেলার কাশিনগর ইউনিয়নের পূর্ব সাহাপুর এলাকায় কৃষিজমি থেকে ভেকু দিয়ে অবৈধভাবে মাটি কাটার খবর পেয়ে অভিযান চালানো হয়। সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সৈয়দ সাফকাত আলীর নেতৃত্বে মোবাইল কোর্ট পরিচালিত হয়।
অভিযানে পুলিশ ও আনসার সদস্যরা অংশ নেন। তবে মোবাইল কোর্টের উপস্থিতি টের পেয়ে মাটি কাটার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিরা ভেকু ফেলে পালিয়ে যায়। পালানোর আগে ভেকুর ব্যাটারি খুলে ফেলায় সেটি জব্দ করা সম্ভব হয়নি।
এ ঘটনায় উপজেলা প্রশাসন ও স্থানীয়দের কাছ থেকে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ভেকুর মালিক হিসেবে বিএনপি কথিত নেতা আব্দুল্লাহ আল বাকীর নাম উঠে এসেছে। এছাড়া মো. নাদিম, আব্দুল ওহাব, শাখাওয়াত হোসেন চৌধুরী ও আবু তাহেরের সম্পৃক্ততার কথাও এজাহার সূতে জানা যায়।
এজাহারে বলা হয়, কৃষিজমি থেকে অনুমতি ছাড়া মাটি কাটার ফলে পরিবেশ ও আশপাশের জমির ফসলের ক্ষতির আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এ ঘটনায় আসামিরা বালু মহাল ও মাটি ব্যবস্থাপনা আইন, ২০১০ এর সংশ্লিষ্ট ধারায় অপরাধ করেছেন বলে অভিযোগ আনা হয়েছে। চৌদ্দগ্রাম মডেল থানার পুলিশ জানায়, অভিযোগটি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


