
সিনিয়র রিপোর্টার, জুয়েল খন্দকার :- দেবীদ্বার উপজেলার ফতেহাবাদ ইউনিয়ন ভূমি অফিসকে ঘিরে খারিজ (নামজারি) করতে মোটা অঙ্কের ঘুষ নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগে বলা হয়েছে, খারিজ করে দেওয়ার কথা বলে ৬০ হাজার টাকা নেওয়ার পরও চার মাস ধরে ভুক্তভোগীকে ঘুরানো হচ্ছে। এমনকি এখন আরও ৫০ হাজার টাকা দাবি করা হয়েছে বলেও অভিযোগ রয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ফতেহাবাদ বাজারের মিনহাজ নামের এক ব্যক্তি একটি জমির খারিজের জন্য প্রায় চার মাস আগে ফতেহাবাদ ইউনিয়ন ভূমি কর্মকর্তা আল আমিনের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। তখন তিনি মিনহাজকে ভূমি অফিসের বিপরীতে আশরাফুল মেম্বারের দোকানে যোগাযোগ করতে বলেন।
পরবর্তীতে আশরাফুল মেম্বারের মাধ্যমে আল আমিনের জন্য ৬০ হাজার টাকা দেওয়া হয় বলে অভিযোগ। অতিরিক্ত টাকার কারণ হিসেবে একটি দাগে (জমির খতিয়ানভুক্ত অংশে) ভুল রয়েছে বলে জানানো হয়। তবে টাকা দেওয়ার পরও দীর্ঘ চার মাস পার হয়ে গেলেও খারিজ সম্পন্ন হয়নি। বরং এখন আরও ৫০ হাজার টাকা দাবি করা হচ্ছে বলে মিনহাজ অভিযোগ করেন।
এদিকে মিনহাজের আত্মীয় মোঃ ফরিদ উদ্দিনের অভিযোগ, তার মা মৃত আবু বিবির ওয়ারিশসূত্রে প্রাপ্ত চার শতক জমি আলী মিয়া প্রতারণার মাধ্যমে নিজের নামে রেকর্ড করে নেন। বিষয়টি সংশোধনের জন্য সহকারী কমিশনার (ভূমি) বা এসিল্যান্ড বরাবর আবেদন করা হলে, তদন্ত প্রতিবেদন চেয়ে আবেদনটি ফতেহাবাদ ইউনিয়ন ভূমি কর্মকর্তার কাছে পাঠানো হয়।
অভিযোগ রয়েছে, সংশ্লিষ্ট নায়েব আল আমিন দীর্ঘদিন ধরে তদন্ত প্রতিবেদন ঝুলিয়ে রাখেন এবং আবেদনকারী ফরিদ উদ্দিনের বিপক্ষে অবস্থান নেন। একই সঙ্গে আলী মিয়ার ছেলে আবদুর রউফকে ডেকে নিয়ে মোটা অঙ্কের অর্থের বিনিময়ে জমিটি তার নাতনির নামে খারিজ করে দেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
ভুক্তভোগীরা অভিযোগ করে বলেন, ভূমি অফিসে সাধারণ মানুষের ন্যায্য কাজ সম্পন্ন করতে ঘুষ ছাড়া উপায় থাকে না। দীর্ঘসূত্রতা ও অতিরিক্ত অর্থ দাবির কারণে তারা চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন। এ বিষয়ে সুষ্ঠু তদন্ত ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন এলাকাবাসী।


