কুমিল্লার জাঙ্গালীয়ার পিডিবির ৩ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে লিগ্যাল নোটিশ দুর্নীতির অভিযোগ

Chif Editor

সিনিয়র রিপোর্টার, জুয়েল খন্দকার :- কুমিল্লার জাঙ্গালীয়া বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (পিডিবি) নির্বাহী প্রকৌশলীসহ তিন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অনিয়ম, দুর্নীতি এবং ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগে লিগ্যাল নোটিশ পাঠানো হয়েছে। প্রিপেইড মিটার স্থাপনের পরও গ্রাহককে ‘ভুতুড়ে বিল’ প্রদান এবং অবৈধভাবে সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার মাধ্যমে আর্থিক ও মানসিক ক্ষতির সম্মুখীন করার অভিযোগে এই নোটিশ প্রদান করা হয়।

ভুক্তভোগী গ্রাহক কুমিল্লা সদর দক্ষিণ উপজেলার শ্রীমন্তপুর গ্রামের মৃত বাবুল হোসেনের ছেলে মোঃ আনোয়ার হোসেনের পক্ষে বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী অ্যাডভোকেট মোঃ রেজাউল কবির এই নোটিশ প্রেরণ করেন।

নোটিশ গ্রহিতা কর্মকর্তাগণ হলেন, ১। পারভেজ আহম্মেদ, নির্বাহী প্রকৌশলী, পিডিবি, জাঙ্গালীয়া, কুমিল্লা, ২। আইয়ুব আলী, উপ-সহকারী প্রকৌশলী, পিডিবি, জাঙ্গালীয়া, কুমিল্লা, ৩। আনিছ, মিটার রিডার (শ্রীমন্তপুর এলাকা), পিডিবি, জাঙ্গালীয়া, কুমিল্লা।

নোটিশ সূত্রে জানা যায়, আনোয়ার হোসেন তার পিতার আমল থেকে সচল বিদ্যুৎ মিটার (নং- ৩১৬৯৪৬১২) ব্যবহার করে আসছিলেন। গত বছরের ৭ অক্টোবর বকেয়া ১০,২৮৫ টাকা পরিশোধের পর এনালগ মিটারটি
বিদ্যুৎ অফিসের পিরাপিরিতে জমা দিয়ে প্রিপেইড মিটার (নং- ১২১০০৯৯৬৬৮০) স্থাপন করেন।

নিয়ম অনুযায়ী প্রিপেইড মিটারে কোনো বকেয়া থাকার কথা না থাকলেও, চলতি বছরের ৯ ফেব্রুয়ারি হঠাৎ করেই ৩৫,১৭৯ টাকার একটি এনালগ বকেয়া বিল প্রদর্শন করে তার বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন (লক) করে দেওয়া হয়।

গ্রাহক আনোয়ার হোসেন এই অস্বাভাবিক বিলের বিষয়ে উপ-সহকারী প্রকৌশলী আইয়ুব আলীর কাছে গেলে তিনি বকেয়া পরিশোধ করতে বলেন। পরবর্তীতে মিটার রিডার আনিছকে জিজ্ঞাসাবাদ করলে তিনি স্বীকার করেন যে, “মিটারে ইউনিট জমিয়ে রেখে কম উল্লেখ করা হয়েছিল।” নোটিশে মিটার রিডারের এই কর্মকাণ্ডকে রাষ্ট্রবিরোধী ও আইনবহির্ভূত বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

বাধ্য হয়ে গ্রাহক গত মাসে কিস্তিতে মোট করসহ ৩৬,৪৬০ টাকা পরিশোধ করেন। তা সত্ত্বেও গত ২৩ ফেব্রুয়ারি থেকে ২৫ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত তার বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন রাখা হয়। ফলে পবিত্র রমজান মাস উপলক্ষে ফ্রিজে সংরক্ষিত প্রায় ৩২,১০০ টাকার নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যদ্রব্য পচে নষ্ট হয়ে যায়। এতে গ্রাহক চরম আর্থিক ও মানবেতর জীবন যাপনের সম্মুখীন হন।

লিগ্যাল নোটিশে উল্লেখ করা হয়েছে যে, সরকারি কর্মচারী হয়েও ক্ষমতার অপব্যবহার এবং দুর্নীতির মাধ্যমে গ্রাহককে হয়রানি করা হয়েছে। নোটিশ প্রাপ্তির ৩০ দিনের মধ্যে গ্রাহকের আর্থিক ক্ষতিপূরণ প্রদান না করলে উক্ত কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে দেশের প্রচলিত আইনে দেওয়ানি ও ফৌজদারি মামলা দায়ের করা হবে উল্লেখ করা হয়েছে।

Leave a Reply