
নিজস্ব প্রতিবেদক :- লিবিয়ায় চার শতাধিক বাংলাদেশি নাগরিকের ওপর অমানবিক নির্যাতনের ঘটনা বিশ্ব মানবাধিকারের জন্য গভীর উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই ভয়াবহ মানবপাচার ও নির্যাতনচক্রের মূলহোতা হিসেবে উঠে এসেছে কুমিল্লার আশরাফ ও তার ভাই বাহার—যারা দীর্ঘদিন ধরে সংগঠিতভাবে বাংলাদেশ থেকে মানুষ পাচার করে লিবিয়ায় পাঠিয়ে আসছে।
বিশ্বস্ত সূত্রে জানা গেছে, আশরাফ ও বাহারের নেতৃত্বে গঠিত একটি দালাল চক্র বাংলাদেশ থেকে ইউরোপে পাঠানোর প্রলোভন দেখিয়ে অসহায় তরুণদের বিদেশে পাচার করছে। এই চক্রের সঙ্গে যুক্ত রয়েছে আশরাফের দুই স্ত্রী—মাদারীপুরের রুনা ও বরিশালের সিমু। এরা লিবিয়ায় অবস্থান করে মহিলা দালালের ভূমিকায় থেকে নতুন শিকার সংগ্রহে সক্রিয় ভূমিকা পালন করছে।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ অনুযায়ী, এই দালাল চক্র প্রথমে বাংলাদেশ থেকে প্রবাসের স্বপ্ন দেখিয়ে কয়েকটি দেশ ঘুরিয়ে লিবিয়ায় নিয়ে যায়। সেখানে পৌঁছানোর পর তাদের পাসপোর্ট কেড়ে নেওয়া হয় এবং ‘গেম ঘর’ নামে পরিচিত নির্যাতন কেন্দ্রে আটকে রাখা হয়। এরপর মুক্তিপণের জন্য পরিবারের কাছে ফোন করে বিপুল অঙ্কের টাকা দাবি করা হয়। টাকা দিতে ব্যর্থ হলে তাদের ওপর চালানো হয় অকথ্য শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন।
একাধিক ভুক্তভোগী জানিয়েছেন, আশরাফ ও বাহারের নির্দেশে এই নির্যাতন চলে, আর নারী সদস্য রুনা ও সিমু বাংলাদেশে থেকে নতুন প্রবাসপ্রত্যাশীদের প্রলুব্ধ করে পাচারের কাজে যুক্ত করেন।
মানবাধিকার সংগঠনগুলো বলছে, লিবিয়ায় বাংলাদেশিদের এই দুঃসহ পরিস্থিতি থেকে উদ্ধারের জন্য সরকার ও আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোর দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া অত্যন্ত জরুরি।
স্থানীয় প্রশাসনের দাবি, এই “মাফিয়া আশরাফ-বাহার চক্র” বহু বছর ধরে গোপনে সক্রিয় এবং আন্তর্জাতিক মানবপাচার নেটওয়ার্কের সঙ্গেও তাদের ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ রয়েছে।



