শিরোনাম
ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার রায়পুর ইউনিয়নের পলাতক চেয়ারম্যান নুরল ইসলামকে পুনর্বহালের চেষ্টা, এলাকায় উত্তেজনা বুড়িচং কন্ঠনগর গ্রামে প্রবাসী ও যুব সমাজ সংগঠনের উদ্যোগে ঈদ সামগ্রী বিতরন সাংবাদিকতার নীতি লঙ্ঘন করে ‘কথিত সাংবাদিক’ লেখা মানহানির অপরাধ এলএলবি পরীক্ষায় নকল ধরায় শিক্ষককে মারধরের অভিযোগ জালিয়াতির দায়ে ‘প্রতিদিনের কাগজ’ এর প্রকাশনা বন্ধে হাইকোর্টের রুল জারি মানবাধিকার সাংবাদিক সংস্থা, মাসাসের উদ্যোগে ইফতার ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত সিলেটে ছিনতাই আতঙ্ক, নয় দিনেও গ্রেপ্তার হয়নি কেউ ডিএমপিতে এডিসি পদমর্যাদার সাত কর্মকর্তাকে বদলি ১১৩ কেজির শাপলাপাতা মাছ জব্দ ৪২টি দাঁত নিয়ে গিনেস রেকর্ড গড়লেন মালয়েশিয়ার যুবক

ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার রায়পুর ইউনিয়নের পলাতক চেয়ারম্যান নুরল ইসলামকে পুনর্বহালের চেষ্টা, এলাকায় উত্তেজনা

Chif Editor

বিশাল রহমান, ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি:- ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার ৯ নং রায়পুর ইউনিয়ন পরিষদের পলাতক চেয়ারম্যান নুরুল ইসলামকে পুনর্বহালের অপচেষ্টা চলছে বলে অভিযোগ করেছেন ইউনিয়ন পরিষদের কয়েকজন সদস্য। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে জুলাই গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী পরিস্থিতিতে দেশের অন্যান্য এলাকার মতো রায়পুরের চেয়ারম্যান নুরুল ইসলাম আত্মগোপনে চলে যাওয়ার পর ইউনিয়ন পরিষদের সভা করে সর্বসম্মতিক্রমে প্যানেল চেয়ারম্যানকে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের দায়িত্ব দেওয়া হয়। গত ১২ ফেব্রুয়ারী নির্বাচনের পর থেকে স্থানীয় বিএনপির একটি গ্রুপ মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে আওয়ামী লীগ নেতা ও একাধিক মামলার আসামি নুরুল ইসলামকে পুনর্বহালের অপচেষ্টা শুরু করে।

গতকাল কয়েকজন মহিলা ইউপি সদস্যকে ডেকে এনে সাদা কাগজে স্বাক্ষর গ্রহণ করে চেয়ারম্যান নুরুল ইসলাম। পরে বিষয়টি প্রকাশ হয়ে গেলে ইউনিয়নবাসীর ক্ষোভে ফুঁসে উঠে।এরপর মহিলা সদস্যগণ চেয়ারম্যান নুরুল ইসলামের বিরুদ্ধে প্রতারণা করে স্বাক্ষর নেওয়ার অভিযোগ করেছেন গণমাধ্যমকর্মীদের নিকট। এ বিষয়ে ইউনিয়ন বিএনপির একাধিক নেতা অভিযোগ করে বলেন, বিএনপির একটি গ্রুপ মোটা অংকের টাকা খেয়ে ফ্যাসিবাদের দোসর নুরুল চেয়ারম্যানকে পুনর্বহালের অপচেষ্টা চালাচ্ছেন।

চেয়ারম্যান নুরুল ইসলামের পুনর্বহালের বিষয়ে ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি তোফায়েল হোসেনের প্রতিক্রিয়া জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমি সোশ্যাল মিডিয়ায় দু’জন মহিলা ইউপি সদস্যের দেওয়া বক্তব্য দেখেছি। এ বিষয়ে এর বেশি কিছু আমার জানা নেই। ৯ নং রায়পুর ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান রমজান আলী জানান, পলাতক চেয়ারম্যান নুরুল ইসলামের বিরুদ্ধে হত্যাসহ একাধিক মামলা রয়েছে। তিনি আবার স্বপদে ফিরে আসার চেষ্টা করছেন বলে আমিও শুনেছি। তিনি আরও বলেন, চেয়ারম্যান পুনর্বহাল হলে জনগণ তা প্রতিহত করবে।

ইউনিয়ন পরিষদের দুজন মহিলা সদস্যের নিকট প্রতারণা করে স্বাক্ষর নেওয়ার বিষয়ে চেয়ারম্যান নুরুল ইসলামের প্রতিক্রিয়া জানতে চাইলে তিনি ফোনে জানান তাঁর বিরুদ্ধে ইউনিয়ন পরিষদের দুজন মহিলা সদস্যের অভিযোগটি মিথ্যা, বানোয়াট ও ভিত্তিহীন। এদিকে আজ দিনব্যাপী ৯ নং রায়পুর ইউনিয়ন পরিষদের বিভিন্ন এলাকায় গিয়ে স্থানীয় জনসাধারণের সাথে এ বিষয়ে কথা বললে,তাঁরা ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে জানান, একটি সুযোগ সন্ধানী মহল পলাতক চেয়ারম্যান নুরুল ইসলামকে টাকার বিনিময়ে পুনর্বাসনের অপচেষ্টায় লিপ্ত রয়েছে। তাঁরা এ ধরনের অন্যায় কর্মকান্ডের বিরুদ্ধে সজাগ থাকার জন্য জনসাধারণকে উদাত্ত আহবান জানিয়েছেন।

উল্লেখ্য রায়পুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও আওয়ামী লীগ নেতার বিরুদ্ধে ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারী ভোটারবিহীন নির্বাচনের সময় ইউনিয়নের ছেপরিকুড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ভোট কেন্দ্রে প্রিসাইডিং অফিসার হত্যা কান্ডের ঘটনায় রায়পুর ইউনিয়নের এক সহস্রাধিক ও পাশ্ববর্তী চিলারং ইউনিয়নের দূই সহস্রাধিক মানুষের বিরুদ্ধে মিথ্যা ও বানোয়াট মামলা দিয়ে গণ হয়রানির অভিযোগ রয়েছে।

প্রিসাইডিং অফিসার হত্যা কান্ডের পরদিন থেকে গোটা এলাকা পুরুষ শুন্য করে নিরপরাধ মানুষের উপর নারকীয় নির্যাতন চালানোর নেপথ্যের খলনায়ক হিসেবে চিহ্নিত নুরুল চেয়ারম্যানকে পুনর্বাসনের চেষ্টার খবরে মাঠ পর্যায়ের বিএনপি নেতাকর্মীদের মধ্যে বিক্ষোভ ছড়িয়ে পরে। এলাকার একাধিক বিএনপি নেতা জেলা ও সদর উপজেলা প্রশাসনকে হুশিয়ার করে দিয়ে বলেন, ফ্যাসিবাদের দোসর নুরল চেয়ারম্যানকে পুনর্বহাল করলে এলাকার জনগণ তা প্রতিহত করবে।

Leave a Reply