
নিজস্ব প্রতিবেদক :- ময়মনসিংহ কোতোয়ালী মডেল থানায় দায়েরকৃত মামলার আসামিদের দীর্ঘ দিনেও গ্রেপ্তার না করায় এবং পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার ‘বিতর্কিত’ বক্তব্যের প্রতিবাদে ডিআইজি বরাবর লিখিত আবেদন জানিয়েছেন মনির চৌধুরী (৭০) নামে এক ব্যবসায়ী ও সমাজকর্মী। গত ৫ মার্চ ২০২৬ তারিখে ময়মনসিংহ রেঞ্জের ডিআইজি বরাবর এই অভিযোগ দাখিল করেন তিনি।
অভিযোগকারী মনির চৌধুরী জানান, ময়মনসিংহ কোতোয়ালী মডেল থানার মামলা নং-২৬ (তারিখ: ৮/১০/২০২৫) এর এজাহারভুক্ত ৬ আসামি— ১. মো: কামাল মিয়া, ২. মো: কবির মিয়া, ৩. মো: রেজাউল করিম, ৪. মো: জয়নাল আবেদীন, ৫. খায়রুল আলম রফিক এবং ৬. সবিনয় গুহ- প্রকাশ্যে বিচরণ করলেও পুলিশ তাদের গ্রেপ্তার করছে না।
আবেদনপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে, উক্ত আসামিরা গত ১৭ বছর ধরে ময়মনসিংহ ও আশপাশের এলাকায় চাঁদাবাজি, ইয়াবা-ফেনসিডিলসহ মাদক ব্যবসা, জাল জালিয়াতি এবং অনৈতিক নারী ব্যবসার সাথে জড়িত। তাদের বিরুদ্ধে কোতোয়ালী থানা, ত্রিশাল থানা এবং সাইবার ট্রাইব্যুনালসহ বিভিন্ন আদালতে একাধিক মামলা ও গ্রেপ্তারি পরোয়ানা রয়েছে।
মনির চৌধুরীর অভিযোগের একটি চাঞ্চল্যকর দিক হলো পুলিশের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার ভূমিকা। তিনি উল্লেখ করেন, গত ২ মার্চ ২০২৬ তারিখে ময়মনসিংহ জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপারেশনস) আলফা-২ জনাব মামুন সাহেবের সাথে সাক্ষাৎ করলে তিনি (পুলিশ সুপার) জানান— “চাঁদাবাজি মামলার আসামি ধরা যাবে না, না ধরার জন্য আমার নির্দেশ রয়েছে।” ঐ পুলিশ কর্মকর্তা আরও বলেন, বর্তমানে বিএনপি যুবদলের বিরুদ্ধেও চাঁদাবাজি মামলা হচ্ছে, তাই এদেরকে গ্রেপ্তার করলে বিতর্ক সৃষ্টি হতে পারে। বাদীর প্রশ্ন, একজন চিহ্নিত অপরাধীকে গ্রেপ্তার না করার জন্য এমন মৌখিক নির্দেশ কোনো আইনের অধীনে পড়ে তা সাধারণ মানুষের জানা প্রয়োজন।
অভিযোগপত্রে জানানো হয়, আসামিরা দীর্ঘদিন ধরে ময়মনসিংহ জিরো পয়েন্ট সাব-রেজিস্ট্রার অফিস ও সংলগ্ন এলাকায় নিয়মিত চাঁদাবাজি করে আসছে। তাদের দাপটে সাধারণ মানুষ ও প্রশাসন আতঙ্কিত। আসামিরা প্রকাশ্যে ঘোষণা দিচ্ছে যে, “পুলিশ আমাদের কখনো ধরবে না, পুলিশ আমাদের সাথে আছে।” আবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়:
আসামিরা নিয়মিত কর প্রদান করে না, কিন্তু বিলাসবহুল জীবনযাপন করে।
ময়মনসিংহ সদরের একটি নির্দিষ্ট হোটেলের রুম রিজার্ভ রেখে তারা মাদক ও অনৈতিক কার্যক্রম পরিচালনা করে।
আসামিরা বিগত আওয়ামী লীগ সরকার, অন্তর্বর্তীকালীন সরকার এবং বর্তমান সরকারের আমলেও একইভাবে তাদের অপকর্ম চালিয়ে যাচ্ছে।
বাদী মনির চৌধুরী, যিনি ময়মনসিংহ বিভাগীয় প্রেস ক্লাবের সহ-সভাপতি এবং একজন নিয়মিত করদাতা ব্যবসায়ী, তিনি তার ও তার সাক্ষীদের জীবনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং চিহ্নিত অপরাধীদের অবিলম্বে আইনের আওতায় আনতে ডিআইজির হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। অভিযোগের সাথে তিনি জাতীয় পরিচয়পত্র, আয়কর সনদ ও ট্রেড লাইসেন্সসহ ৬টি গুরুত্বপূর্ণ নথি সংযুক্ত করেছেন।


