শিরোনাম
রংপুর বিভাগের সাংবাদিক ও মেধাবী সন্তানের মাঝে আর্থিক অনুদানের চেক বিতরণ মিথ্যা অভিযোগ ও জেল হাজতের শিকার রোমিও: জন্মনিবন্ধনের সত্যতা প্রমাণিত হওয়ায় জামিন জমকালো আয়োজনে দৈনিক কুমিল্লা প্রতিদিন ও পেশাজীবী সাংবাদিক সোসাইটির ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত ট্রাম্পকে ‘প্রতারণার মাধ্যমে’ যুদ্ধে জড়িয়েছেন নেতানিয়াহু: ইরানি পার্লামেন্ট স্পিকার হরমুজ প্রণালী খোলা রাখতে ‘ভয়াবহ বোমা হামলার’ হুমকি ট্রাম্পের মানুষের জন্ম থেকে মৃত্যু পর্যন্ত নিরাপত্তা নিশ্চিতে পুলিশ প্রয়োজন: আইজিপি তিতুমীর কলেজে লক্ষ্মীপুর জেলা ছাত্রকল্যাণ পরিষদের দোয়া ও ইফতার মাহফিল ৪ বিভাগে বেশি বৃষ্টি হতে পারে অনিয়ম ও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ, ময়নপুর ইউপি চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে ছুটির দিনে অর্ধ কোটি টাকার নিয়োগ পরীক্ষা নিয়ে পরস্পর বিরোধী অবস্থানে ইউএনও এবং বিএনপি সভাপতি

মিথ্যা অভিযোগ ও জেল হাজতের শিকার রোমিও: জন্মনিবন্ধনের সত্যতা প্রমাণিত হওয়ায় জামিন

Chif Editor

শিল্পী আক্তার, রংপুর ব্যুরো :- রংপুর মহানগরীর কোতোয়ালি থানায় দায়ের হওয়া মিথ্যা মামলায় গ্রেফতার হওয়া আহসান হাবিব রোমিও অবশেষে আদালতের মাধ্যমে জামিনে মুক্তি পেয়ে স্বাভাবিক জীবন ফিরে পেয়েছেন। মামলাটির মূল অভিযোগ ছিল নাবালিকা অপহরণ, যেখানে ভুয়া জন্মনিবন্ধনের মাধ্যমে রোমিওকে অপহরণকারী হিসেবে অভিযুক্ত করা হয়।

ঘটনার সূত্রপাত ৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ইং, যখন রুনা লায়লা তার মেয়ে মোহসিনা আক্তারের নিখোঁজ হবার অভিযোগ দায়ের করেন। কোনো প্রাথমিক তদন্ত ছাড়াই পুলিশ মামলাটি গ্রহণ করে এবং রোমিওকে গ্রেফতার করে হাজতে পাঠায়। গ্রেফতারের সময় রোমিও অসুস্থ হয়ে পড়েন, যার ফলে তাকে দ্রুত রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয় এবং চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়।

পরবর্তীতে ২৩ ফেব্রুয়ারি বিজ্ঞ মহানগর নারী ও শিশু আদালতে উভয় পক্ষের বক্তব্য শোনা হয়। আদালত ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ইং তারিখে মোহসিনাকে হাজির করার নির্দেশ দেন এবং জন্মনিবন্ধনের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য তদন্তের নির্দেশ প্রদান করেন।

তদন্তে প্রমাণিত হয়, মামলাকৃত জন্মনিবন্ধন ভুয়া এবং মোহসিনা খাতুন সেচ্ছায় রোমিওর কাছে গেছেন। তিনি ১৮ বছরের বেশি বয়সী এবং লিখিত কাবিননামা অনুযায়ী তাদের বৈধভাবে বিবাহ সম্পন্ন হয়েছে। এই প্রমাণের ভিত্তিতে আদালত রোমিওকে জামিন মঞ্জুর করেন এবং তাদের সংসার করার অনুমতি দেন।

উল্লেখযোগ্য, আহসান হাবিব রোমিও একজন আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সুরক্ষা ও বিরোধ নিষ্পত্তি কেন্দ্রের (নিবন্ধন নং: 8201 – Bk -IV – 09/25) প্রধান নির্বাহী পরিচালক, ঢাকা সেন্ট্রাল ব্রাঞ্চ। তার সামাজিক ও মানবাধিকার কার্যক্রমের জন্য দেশ-বিদেশে বিভিন্ন পুরষ্কার প্রাপ্ত।

ভুক্তভোগীর পরিবারের বরাত দিয়ে জানা যায়, মিথ্যা মামলা ও প্রকাশিত ভুয়া সংবাদ জনসাধারণকে বিভ্রান্ত করার উদ্দেশ্যে পরিকল্পিত। এই কর্মকাণ্ডে পুলিশের সহযোগিতা, প্রাক্তন স্ত্রী রীপা এবং বাদিনী রুনা লায়লাদের সক্রিয় অংশগ্রহণ রয়েছে। এছাড়া কিছু নামধারী সাংবাদিক, বিশেষ করে আতিকুর রহমান আতিককে ব্যবহার করে সামাজিক ও অনলাইন মাধ্যমে ঘটনার ভুয়া প্রচারণা চালানো হয়েছিল।

এই ঘটনায় রোমিওর সংস্থা, কর্মকর্তা, কর্মী ও সমর্থকরা তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন। দেশের বিভিন্ন সমাজকর্মীও প্রকাশ্যভাবে মিথ্যা অভিযোগ ও ভুয়া সংবাদকে গর্হিত হিসেবে অভিহিত করেছেন। আদালতও রোমিওর জামিন মঞ্জুর এবং সত্যতা প্রমাণের বিষয়টি প্রশংসা করেছেন।

আইন বিশেষজ্ঞরা মন্তব্য করেছেন, মিথ্যা মামলা ও ভুয়া তথ্যের ভিত্তিতে নিরপরাধ মানুষকে হয়রানি করা একটি গুরুতর অপরাধ। এই ঘটনায় স্পষ্ট হয়েছে যে, প্রাথমিক তদন্ত, জন্মনিবন্ধনের সত্যতা যাচাই এবং আইনের যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ করা কতটা গুরুত্বপূর্ণ, যাতে সমাজে অনাকাঙ্ক্ষিত দূষণ ও অন্যায় প্রতিরোধ করা যায়।

মোহসিনা খাতুনের লিখিত জবানবন্দি প্রমাণ করে, মামলাটি সম্পূর্ণ রূপে মিথ্যা, বানোয়াট ও উদ্দেশ্যমূলক। এ ঘটনার মাধ্যমে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থাগুলোর প্রতি আহ্বান, যাতে এমন উদ্দেশ্যমূলক অভিযোগকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হয় এবং নিরপরাধদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা যায়।

Leave a Reply