শিরোনাম
নূরের উপর হামলা, চট্টগ্রামে সড়ক অবরোধ ভুরুঙ্গামারীতে সরকারি চাকুরির বিধি লঙ্ঘন করে প্রাথমিকের শিক্ষকের দাপুটে সাংবাদিকতা সরকারি নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে আবারও জমি ভরাটের কাজ করছেন চাঁনপুরে আওয়ামী দোসরেরা ফটিকছড়িতে মুরগির খামারে খাবার খেতে এসে ধরা পড়েছে একটি বিরল প্রজাতির মেছোবাঘ ক্ষমতায় গেলে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা ও দূর্নীতি প্রতিরোধ করবে জামায়াত: অধ্যক্ষ আমিরুজ্জামান গুলশানের শীর্ষ মাদক ব্যবসায়ী গ্রেফতার রংপুর প্রেসক্লাবের বহিষ্কৃত সাধারণ সম্পাদক আওয়ামী দোসর মেরিনা লাভলীর অফিস ও বাসায় পুলিশের তল্লাশি সাবেক সভাপতি মিজানুর রহমান রাজের মুক্তি দাবিতে তেজগাঁও কলেজ ছাত্রদলের প্রতিবাদ বিআইডব্লিউটিএ দুর্নীতি ড্রেজিংয়ের টাকায় আংগুল ফুলে কলাগাছ সাইদুর রংপুর প্রেসক্লাব দখলের চেষ্টা মামলার আসামিদের গ্রেপ্তারের দাবিতে স্মারকলিপি প্রধান, থানা ঘেরাও কর্মসচি”র হুশিয়ারি

তেজগাঁও কলেজে পরীক্ষায় বঞ্চিত শিক্ষার্থী, অফিস সহায়ক সাময়িক বরখাস্ত

S M Rashed Hassan

আজিজুল ইসলাম যুবরাজঃ

তেজগাঁও কলেজের চতুর্থ বর্ষের ছাত্রী মাহফুজা ইসলাম মীমের অভিযোগে উত্তপ্ত শিক্ষাঙ্গন। অভিযুক্ত অফিস সহকারী সুমনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।

গতকাল রবিবার (২৭ জুলাই) পরীক্ষার দিন তাকে প্রবেশপত্র না দেওয়ার ঘটনায় কলেজ প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। অভিযোগ ওঠার পর কলেজ কর্তৃপক্ষ হিসাব শাখার কর্মচারী নুরের রহমান ওরফে সুমনকে শোকজ করে সাময়িক বরখাস্ত করেছে এবং তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে।

শিক্ষার্থী মাহফুজা ইসলাম মীম বলেন, আমি নির্ধারিত সময়েই ফর্ম ফিলআপ করেছি, টাকা জমা দিয়েছি, ব্যাংকের রিসিপ্ট জমা দিয়েছি। প্রয়োজনে আপনারা সিসিটিভি ফুটেজ দেখতে পারেন। কিন্তু পরীক্ষার দিন প্রবেশপত্র নিতে গিয়ে জানতে পারি, আমার ফাইল গায়েব। হিসাব শাখার সুমন আগেও আমার বিষয়ে জটিলতা করেছিলেন। এবার হয়তো পূর্বের আক্রোশেই ইচ্ছাকৃতভাবে আমার ফাইল আটকে দিয়েছেন। কিন্তু আমরা এই দেশের জন্য আন্দোলন করিনি এই অবিচার দেখার জন্য।

তিনি অভিযোগ করেন, আমি অধ্যক্ষ ম্যামের কক্ষের সামনে প্রায় ১ ঘন্টা অপেক্ষা করেছি, এসময় অধ্যক্ষের ব্যক্তিগত সহকারী রাব্বি বলেন— প্রমাণ কই, তুমি ফাইল জমা দিয়েছো? আমি বলি, ‘ব্যাংকের রিসিপ্ট আছে’। তিনি বলেন, ‘এসবে কিছু হবে না’। এরপর আমি অধ্যক্ষ ম্যাডামের কাছে গেলে তিনি বলেন আমি কি করবো?

হিসাব শাখার অফিস সহকারী সুমন বলেন, মীম আমাকে ফাইল জমা দিয়েছে কিনা আমি নিশ্চিত নই। যদি দিত, অবশ্যই নিয়ম মতো জমা দিতাম। হয়তো সে অন্য কাউকে দিয়েছে কিংবা কেউ কাগজ হারিয়েছে। তার সঙ্গে আমার কোন ব্যক্তিগত শত্রুতা নেই।

ফর্ম ফিলআপের সময় তার সাথে শিক্ষার্থী মীমের বাকবিতন্ডার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, সেসময়ে সে আমাকে একটি আবেদন ও কাগজপত্র দিয়ে কিছু টাকা মওকুফের জন্য সাহায্য করতে বললে আমি রাজি হই, পরে তারই কোন এক সহপাঠী নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের তাজিমকে দিয়ে মওকুফ করালে আমি তাকে শুধু বলেছিলাম যে, ছাত্রলীগের কাছে আমাকে ছোট না করলেও পারতে।

অধ্যক্ষের ব্যক্তিগত সহকারী রাব্বি বলেন, শিক্ষার্থী মীম পরীক্ষার দিন দুপুর ১২টায় এসেছে, পরীক্ষা ছিল ২টায়। এত কম সময়ের মধ্যে কিছু করা সম্ভব ছিল না। সে যদি আগেই আসতো—বিশেষ করে বৃহস্পতিবার, তাহলে ব্যবস্থা নেওয়া যেত। আমি তার সঙ্গে কোনও অসদাচরণ করিনি এবং কারো পক্ষ নিয়েও কোন কথা বলিনি।”

তেজগাঁও কলেজের অধ্যক্ষ বলেন, শিক্ষার্থী মীমের ফাইল আমরা খুঁজে পাইনি। পরীক্ষার দিন এসে প্রবেশপত্র পাওয়া যাবে—এমন কথা কলেজ থেকে বলা হয়নি। কেননা প্রবেশপত্র আরো আগেই সংগ্রহ করা উচিৎ ছিল, এতে কোন ভুল ত্রুটি থাকলে তা সংশোধন করা যেত। ফর্ম ফিলআপে সমস্যা থাকলে তাকে আগে জানাতে হতো। আমরা কাউকে ইচ্ছাকৃতভাবে বঞ্চিত করিনি।

অন্যান্য সাধারণ শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন ধরনের অভিযোগ রয়েছে, তন্মধ্যে দরিদ্র মেধাবী শিক্ষার্থীদের মওকুফের বিষয়টি অন্যতম এবং ঘন্টার পর ঘন্টা কক্ষের সামনে অপেক্ষার বিষয়ে তিনি বলেন, কোন আবেদনপত্র ফেরত পাঠানো হয় না। যাদের জন্য প্রয়োজন অবশ্যই তাদের মওকুফ করা হয়। এব্যাপারে সকল সাধারণ শিক্ষার্থীদের সরাসরি তার সাথে কথা বলতে বলেন তিনি।

এছাড়া শিক্ষার্থীর অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে হিসাব শাখার অফিস সহকারী নুরের রহমান ওরফে সুমনকে শোকজ করা হয়েছে এবং তাকে দায়িত্ব থেকে সাময়িক অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। একইসঙ্গে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন জমা দিলে সত্য বেরিয়ে আসবে।

 

প্রশাসনিক স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন ও বিচার দাবি নিয়ে শিক্ষার্থী মাহফুজা ইসলাম মীম বলেন, আমি বিচার চাই। আমি চাই না, আমার মতো আর কোনও ছাত্রী এভাবে বঞ্চিত হোক। একজন বিবাহিত নারী হিসেবে সংসার সামলে পরীক্ষা দেওয়ার লড়াইটা সহজ না। অথচ আমার সব চেষ্টা মুছে দেওয়া হলো এই অসাধু কর্মচারীর কারণে। আমি কখনোই কোন ছাত্রলীগ কিংবা কারো দারস্থ হইনি, প্রয়োজনে আপনারা খোজ নিয়ে দেখুন।

তিনি আরো অভিযোগ করেন, তিনি যখন দিশেহারা কান্না করছিলেন তখন অভিযুক্ত সুমন ব্যঙ্গাত্মকভাবে হাসছিলেন, যদিও সুমন তা অস্বীকার করেছেন।

 

ঘটনার পর সাধারণ শিক্ষার্থীদের মাঝে ক্ষোভ বিরাজ করছে। অনেকে প্রশ্ন তুলেছেন—যখন হাজার হাজার শিক্ষার্থী নির্ধারিত নিয়মে ফর্ম ফিলআপ করে প্রবেশপত্র পায়, তখন একজন শিক্ষার্থী কেন বাদ পড়লো? তার জীবন থেকে মুছে যাওয়া একটি বছরে দ্বায় কারা নেবে?

 

শিক্ষার্থীর স্বপ্ন ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে প্রশাসনিক স্বচ্ছতা ও মানবিকতা প্রয়োজন। এখন দেখার বিষয়, তদন্তে কী উঠে আসে এবং কলেজ কর্তৃপক্ষ সেই অনুযায়ী কী ব্যবস্থা নেয়!

Leave a Reply