স্টাফ রিপোর্টার:
সরকারি চাকুরির বিধি লঙ্ঘন করে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের একজন সহকারী শিক্ষক সাংবাদিকতার মতো দ্বিতীয় পেশায় যুক্ত থেকে একজন পেশাদার সাংবাদিককে, সাবেক ছাত্রদল নেতা ও একজন সাবেক যুবদল নেতার সম্মানহানি করে নিউজ করার অভিযোগ উঠেছে। বিষয়টি নিয়ে সংশ্লিষ্ট এলাকায় চলছে নানা আলোচনা ও সমালোচনার ঝড়।
জানা যায়, কুড়িগ্রাম জেলার ভূরুঙ্গামারী উপজেলার চর ভূরুঙ্গামারী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের” সহকারী শিক্ষক মোঃ আমিনুর রহমান বাবু দীর্ঘ দিন ধরে একটি অনলাইন নিউজ পোর্টাল, জাতীয় দৈনিক কালের কন্ঠ ও ইংরেজি পত্রিকা ডেইলি ট্রাইবুনাল পত্রিকায় সাংবাদিকতা করে আসছেন। তিনি নিয়মিত সংবাদ সংগ্রহ, রিপোর্ট প্রকাশের ভয় ও হুমকি দেখিয়ে বিভিন্ন ভুক্তভোগীকে ও বিভিন্ন দপ্তরে প্রভাব খাটানো এবং বিভিন্ন প্রশাসনিক বিষয়ে লেখালেখি করছেন। এমনকি বিভিন্ন সময় প্রেস কনফারেন্সেও অংশ নিতে দেখা গেছে তাকে।
এছাড়া মঙ্গলবার (২৬ আগষ্ট) সকাল ১১ টা থেকে বিকেল ২ টা পর্যন্ত উপজেলার চর ভূরুঙ্গামারী নতুন হাট হাই স্কুল গেইটে মানববন্ধনে অংশগ্রহণ করে তাকে নিউজের তথ্য সংগ্রহ করতে দেখা যায়। এসময় এনটিভি অনলাইন নিউজ এর বোম হাতে আরেক সাংবাদিককে ভিডিও করতে দেখা যায়। সাংবাদিক ও প্রভাষক মোঃ শামসুজ্জোহা সুজন কলেজ চলাকালীল সময়ে ওই মানববন্ধনে উপস্থিত হয়ে অনেকের বিরুদ্ধে মানহানি কর তথ্য তুলে ধরে নিউজ প্রচার করে। তথ্য নিয়ে জানা গেছে ওই সাংবাদিক ভূরুঙ্গামারী মহিলা ডিগ্রি কলেজে উৎপাদন ব্যবস্থাপনা ও বিপণন বিষয়ের প্রভাষক হিসেবে কর্মরত।
এছাড়াও এমপিওভুক্ত এবং ননএমপিও শিক্ষকরা সাংবাদিক পরিচয় দিয়ে শিক্ষা কর্মকর্তা, নিজ নিজ সহকর্মী ও প্রতিষ্ঠান প্রধানদের জিম্মি করে রাখেন মর্মে অনেকের এমন অভিযোগ দীর্ঘদিনের। এরা পাবলিক পরীক্ষার হলেও অবৈধভাবে ঢুকে পড়েন। ধরা পড়লে বা তদন্ত কমিটি হলে এই সব এমপিওভুক্ত শিক্ষকরা দাবি করেন যে তারা লাভজনক কিছু করছেন না। মানে তারা কোনো বেতন-ভাতা নেন না এই বলেই দায় সারে।
সরকারি চাকুরি ২০১৮ বিধিমালার ৩৪ নম্বর বিধিতে স্পষ্টভাবে উল্লেখ রয়েছে, “সরকারি কর্মচারীরা সরকারের পূর্বানুমতি ব্যতিরেকে অন্য কোনো চাকুরি বা পেশায় নিয়োজিত থাকতে পারবেন না।” অথচ ওই শিক্ষক সরকারি অনুমোদন ছাড়াই সাংবাদিকতা চালিয়ে যাচ্ছেন।
স্থানীয় এক সচেতন নাগরিক বলেন, “একজন সরকারি শিক্ষক পুরো সময় শিক্ষার্থীদের পাঠদানে ব্যস্ত থাকার কথা। কিন্তু সাংবাদিকতার মতো সময়সাপেক্ষ পেশা পালনের কারণে তিনি শিক্ষার ক্ষতি করছেন।”
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, সরকারি চাকরি বিধি মোতাবেক সরকারী ও বেসরকারি স্কুল-কলেজের শিক্ষকদের সাংবাদিকতা করার সুযোগ নেই। কারণ সরকার তাদের বেতনের শতভাগ প্রদান করছে। তাছাড়া সাংবাদিকতা এখন একটি লাভজনক পেশা। সরকারি দপ্তরের বিজ্ঞাপন থেকে তারা পার্সেন্টেজ পাচ্ছেন।
এবিষয়ে উপজেলা শিক্ষা অফিসার আখতারুজ্জামান এর হোয়াটসঅ্যাপে একাধিক বার যোগাযোগের চেষ্টা করলে সে মেসেজ দেখার পরেও কোন বক্তব্য দিতে রাজি হননি।