
ঢাকা জেলা প্রতিনিধি :- রাজধানীর খিলক্ষেতে তেজগাঁও কলেজের ছাত্র ইকরাম হোসেন মোল্লা (২২) হত্যা মামলায় আদালত দুই আসামিকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে। রোববার (২২ ফেব্রুয়ারি) ঢাকার মহানগর দায়রা জজ আদালতের বিচারক মো. সাব্বির ফয়েজ এই রায় ঘোষণা করেন।
দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন মো. সিদ্দিক (২৩) ও মো. শান্ত মিয়া (২২)। আদালত তাদের মৃত্যুদণ্ডের পাশাপাশি লাশ গুমের অপরাধে সাত বছরের সশ্রম কারাদণ্ড এবং ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করেন। জরিমানা অনাদায়ে আরও তিন মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে।
মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ইকরাম হোসেন মোল্লা ইট-বালুর ব্যবসায় অংশ নেওয়া বন্ধু শান্তকে দুই লাখ টাকা দিয়েছিলেন। প্রতি মাসে হাত খরচার টাকা দেওয়ার কথা থাকলেও ২০২২ সালের অক্টোবর থেকে ইকরাম কোন টাকা পাননি। এর পাশাপাশি শান্ত মাদকাসক্ত হয়ে ব্যবসার পুঁজি শেষ করতে থাকায় দুই বন্ধুর মধ্যে বিরোধ দেখা দেয়। বিষয়টি পরিবারকে জানানোয় এবং টাকা চাওয়ায় শান্ত ক্ষুব্ধ হন এবং তার বন্ধু সিদ্দিককে সঙ্গে নিয়ে ইকরাম হত্যার পরিকল্পনা করেন।
মামলার নথি অনুযায়ী, ২০২৩ সালের ৪ মে রাতে পাওনা টাকা ফেরত দেওয়ার কথা বলে ইকরামকে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে যায় শান্ত ও সিদ্দিক। ৫ মে খিলক্ষেত থানায় তার নিখোঁজের সাধারণ ডায়েরি করা হয়। ৬ মে বসুন্ধরা বালুর চর থেকে ইকরামের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পুলিশ ও গণমাধ্যম সূত্রে জানা যায়, ইকরামের ওপর হাতুড়ি ও ভোমর দিয়ে আঘাত করা হয় এবং এন্টিকাটার দিয়ে গলা কেটে হত্যা করা হয়। হত্যার পর লাশ একটি ডোবায় ফেলে কচুরিপানা দিয়ে ঢেকে রাখা হয়।
ইকরামের বাবা কবির হোসেন মোল্লা খিলক্ষেত থানায় অজ্ঞাত আসামিদের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা দায়ের করেন। তদন্ত শেষে ২০২৩ সালের ২৬ নভেম্বর আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করা হয় এবং পরবর্তীতে ২০২৪ সালের ২৯ ফেব্রুয়ারি আদালত অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরু করে। বিচার চলাকালে ১৭ জন সাক্ষী আদালতে সাক্ষ্য প্রদান করেন।



