
দীপা আক্তার, নারায়নগঞ্জ প্রতিনিধি :- নারায়ণগঞ্জ-৩(সোনারগাঁও-সিদ্ধিরগঞ্জ) আসনে বিএনপির ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী আজহারুল ইসলাম মান্নানকে পরাজিত করতে নীল নকশা বাস্তবায়নে এগিয়ে যাচ্ছেন জেলা বিএনপির আহ্বায়ক মামুন মাহমুদ। সেই নীল নকশা বাস্তবায়নে তিনি মান্নানকে কব্জা করার পরিকল্পনা এটেঁছেন।
এ দিকে বিএনপি থেকে বহিষ্কৃত স্বতন্ত্র প্রার্থী রেজাউল করিম ও গিয়াসউদ্দীনের সঙ্গে গোপন যোগাযোগের মাধ্যমে ষড়যন্ত্রে সক্রিয় ভুমিকা রাখছেন। মান্নানকে পরাজিত করতে মান্নানেরই নির্বাচনী পরিচালনা কমিটির আহ্বায়ক হওয়ার তদবির চালাচ্ছেন মামুন। তবে মামুন মাহমুদের এমন পাতা ফাঁদে মান্নান পা দিবে কিনা সেটা এখন দেখার বিষয়।
স্থানীয় নেতাকর্মীরা বলছেন, ৩ নভেম্বর আজহারুল ইসলাম মান্নানকে প্রাথমিক মনোনয়ন ও ২৪ ডিসেম্বর চূড়ান্ত মনোনয়ন দেয়ার পরেও মামুন মাহমুদ ও তার অনুগামীরা ধানের শীষের বিরোধীতা করে আসছেন।
২২ জানুয়ারী প্রথমবারের মত মামুন মাহমুদকে মান্নানের সঙ্গে বসতে দেখা যায়। তবে এর আগে জল ঘোলা করে নিজের চরিত্র চিনিয়েছেন মামুন মাহমুদ। চরম হিংস্বাত্মক মামুন মাহমুদ তার নেতাকর্মীদের বলেছেন, মান্নান এমপি হলে আমাদের রাজনীতি থাকবে না। যে করেই হোক মান্নানকে ঠেকাতে হবে। সেই নির্দেশেই মামুন মাহমুদের অনুগামী নেতাকর্মীরা ধানের শীষের পক্ষে মাঠে নামেনি। কিন্তু নামকাওয়াস্তে দলের পদ পদবী বাঁচাতে ধানের শীষের পক্ষে থাকার অভিনয় করেছেন মাত্র।
২২ জানুয়ারীর পরে এমন অভিনয়ই করছেন মামুন মাহমুদের অনুগামীরা। এমনকি মামুন মাহমুদের অনুগামী অকিল উদ্দীন ভুঁইয়া, শাহ আলম হীরা, রিয়াজুল ইসলাম, সামসুউদ্দীন শেখ, গাজী মনির হোসেন, দেলোয়ার হোসেন খোকন ও জুয়েল রানার কাছে একাধিকবার মান্নানের প্রতিনিধি যোগাযোগ করলেও তারা ধানের শীষের পক্ষে কাজ করতে নামেননি। উল্টো তারা ষড়যন্ত্রকারী হিসেবে পরিচিত গিয়াসউদ্দীনকে সহযোগীতা করে আসছিলেন। কিন্তু ২২ জানুয়ারী মান্নান ও মামুন মাহমুদের এক সঙ্গে বসার পর সিদ্ধিরগঞ্জে মামুন মাহমুদের অনুগামীরা ধানের শীষের পক্ষে আছেন বলে অভিনয় শুরু করে দিয়েছেন।
এতদিন মান্নানের পক্ষে যারা ঝান্ডা ধরেছিলেন তাদেরকে উল্টো বুঝানোর অপচেষ্টা করছেন।
ঘটনা সূত্রে, প্রাথমিকভাবে মনোনিত হওয়ার আগেই সোনারগাঁয়ে এক সমাবেশে মামুন মাহমুদ প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন মান্নান মনোনয়ন পেলে সিদ্ধিরগঞ্জে সবার আগে তিনিই সমাবেশ করে দিবেন। কিন্তু মনোনয়ন পেয়ে মামুন মাহমুদের কাছে মান্নান গেলেও কোনো ধরণের সারা পায়নি মান্নান। উল্টো গিয়াস ও রেজাউল করিমের সঙ্গে জোট বেধে মান্নানের মনোনয়ন বাতিলের দাবিতে মানববন্ধণ ও মশাল মিছিলে নেতাকর্মীদের অংশগ্রহণ করান তিনি।
একই সঙ্গে ৭জন একজোট হয়ে মান্নানের মনোনয়ন বাতিল চেয়ে দলটির চেয়ারম্যানের বরাবর দরখাস্ত দেন মামুন মাহামুদ। ওই সময় নেতাকর্মীদের সাফ জানিয়ে দেন মান্নানকে কোনোভাবেই এমপি হতে দেয়া যাবে না। তাহলে আমাদের রাজনীতি শেষ হয়ে যাবে।
অনুসন্ধান বলছে, মামুন মাহমুদ নিজের পদ বাঁচাতে ধানের শীষের পক্ষে বক্তব্য রাখলেও ধানের শীষের ভোট সংগ্রহে তার ও তার অনুগামী নেতাকর্মীদের কোনো ভুমিকা নাই। এমন অবস্থায় গিয়াস ও রেজাউল করিমের সঙ্গে সার্বক্ষনিক যোগাযোগ রাখছেন মামুন মাহমুদ। মামুন এখন চাচ্ছেন কেন্দ্রীয় নেতাদের দিয়ে তদবির করিয়ে মান্নানের নির্বাচনী পরিচালনা কমিটির আহ্বায়ক হতে। এমন গুরুদায়িত্ব নিয়েই কেবল মান্নানকে পরাজিত করা সম্ভব। নেই নীল নকশা বাস্তবায়নে এটাই মামুন মাহমুদের প্রথম টার্গেট। পরিচালনা কমিটির দায়িত্ব নিয়ে প্রথমেই মান্নানের বিশ্বস্ত লোকজনকে মাইনাস করে তার ঢিলেঢালাভাবে নির্বাচন পরিচালনা করবেন। এতে স্বতন্ত্র প্রার্থী রেজাউল করিম বা গিয়াসের জয়ের সম্ভাবনা তৈরি হবে। মামুন মাহমুদ চাচ্ছেন ভোটের মাঠে রেজাউল করিম কিংবা গিয়াসকে মাঠে রাখতে। যে কোনো সময় তাদের যেকোনো একজন নির্বাচন থেকে সরে যাওয়ার ঘোষণা দিতে পারেন। এতে অবাক হওয়ার কিছুৃ থাকবেনা।


