
অনলাইন ডেস্ক :- বরগুনা জেলা জামায়াতে ইসলামীর অ্যাসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি মো. শামীম আহসানের বিরুদ্ধে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের নির্বাচনী অনুসন্ধান ও বিচারিক কমিটির নির্দেশনা অমান্যের অভিযোগ উঠেছে। শিক্ষক হয়েও সরাসরি নির্বাচনী প্রচারণায় অংশ নেওয়ার অভিযোগে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ এবং নির্বাচনী কার্যক্রম থেকে বিরত রাখার সুপারিশ করা হয়েছে।
এই জামায়াত নেতাই সম্প্রতি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্য করে পরে দুঃখ প্রকাশ করেন।
গত ২২ জানুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ১১০ বরগুনা-২ সংসদীয় আসনের নির্বাচনী অনুসন্ধান ও বিচারিক কমিটি-০২ এর বিচারক, বরিশালের সিভিল জজ শেখ ফারহান নাদীম এ সুপারিশ করেন। অভিযুক্ত মো. শামীম আহসান বরগুনার পাথরঘাটা উপজেলার কিরণপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হিসেবে কর্মরত।
এর আগে গত ১৪ জানুয়ারি বরগুনা-২ আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থীর নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সদস্য হাসান আহমেদ নির্বাচনী অনুসন্ধান ও বিচারিক কমিটির কাছে মো. শামীম আহসানের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করেন।
অভিযোগটি আমলে নিয়ে নির্বাচনী অনুসন্ধান ও বিচারিক কমিটি মো. শামীম আহসানকে সশরীরে উপস্থিত হয়ে লিখিত জবাব দিতে নির্দেশ দেয়। তবে তিনি নির্ধারিত সময়ে উপস্থিত না হয়ে কেবল লিখিত জবাব দাখিল করেন। পরবর্তীকালে অভিযোগের সত্যতা পাওয়ায় বিচারিক কমিটির বিচারক শেখ ফারহান নাদীম নির্বাচন কমিশনে তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ এবং তাকে নির্বাচনী কার্যক্রম থেকে বিরত রাখার সুপারিশ করেন।
নির্বাচন কমিশনে পাঠানো সুপারিশপত্রে বলা হয়, মো. শামীম আহসানের বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগটি নির্বাচনী আইন ও আচরণবিধির আওতাভুক্ত এবং অনুসন্ধানযোগ্য। সশরীরে উপস্থিত হয়ে জবাব দেওয়ার নির্দেশ অমান্য করায় অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হয়েছে বলে কমিটির অভিমত।
বিষয়টি নিয়ে মো. শামীম আহসান বলেন, ‘আমি একটি এমপিওভুক্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে চাকরি করি। সেখানে এ ধরনের কোনো নিষেধাজ্ঞা নেই। অনেকেই তো নির্বাচনেও অংশগ্রহণ করেছে।’ নির্বাচন কমিশন থেকে কোনো নির্দেশনা পেয়েছেন কি না—এমন প্রশ্ন করা হলে তিনি ফোন সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন।
এ বিষয়ে বরগুনা জেলা প্রশাসক ও জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা তাছলিমা আক্তারের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
তবে জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মো. আতিকুল ইসলাম জানান, নির্বাচনী অনুসন্ধান ও বিচারিক কমিটির সুপারিশ এখনো তাদের কাছে পৌঁছায়নি। নির্বাচন কমিশন থেকে যে নির্দেশনা আসবে, সে অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।



