
অনলাইন ডেস্ক :- জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও ঢাকা–১১ আসনের জামায়াত নেতৃত্বাধীন জোটের প্রার্থী নাহিদ ইসলাম বর্তমানে এক কঠিন রাজনৈতিক অবস্থানের মধ্যে রয়েছেন। বাংলাদেশের সবচেয়ে তরুণ রাজনৈতিক দল হিসেবে এনসিপিকে তিনি উপস্থাপন করেছেন একটি সংস্কারমুখী শক্তি হিসেবে, যা দীর্ঘদিনের প্রোথিত রাজনৈতিক ব্যবস্থাকে চ্যালেঞ্জ জানাচ্ছে। তবে নির্বাচনী বাস্তবতায় দলটি জামায়াতে ইসলামী ও অন্যান্য ইসলামি দলের সঙ্গে জোটে যেতে বাধ্য হয়েছে।
দ্য উইককে দেওয়া নাহিদ ইসলামের সাক্ষাৎকারটি পাঠকদের জন্য হুবহু তুলে ধরা হলো-
আসন্ন নির্বাচনে জামায়াত–এনসিপি জোটের সম্ভাবনা কী?
এই জোট কি কেবল নির্বাচনী, নাকি এর পেছনে আদর্শিক ভিত্তিও আছে?
এটি মূলত নির্বাচনী জোট, আসনভিত্তিক সমঝোতার মাধ্যমে গঠিত। তবে কিছু অভিন্ন ইস্যু রয়েছে। একটি বড় এজেন্ডা হলো বিপ্লব-পরবর্তী সংস্কার। এ জন্য একটি কনসেনসাস কমিশন গঠিত হয়েছে এবং একটি গণভোট হবে। আমরা ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে প্রচার করব। সরকার গঠন করতে পারলে যৌথভাবে সংস্কার প্রস্তাব বাস্তবায়ন করব। সংস্কার আমাদের অন্যতম প্রধান এজেন্ডা। দ্বিতীয়টি হলো দুর্নীতিবিরোধী অবস্থান ও সুশাসন। আরেকটি বিষয় হলো সার্বভৌমত্ব ও আধিপত্যবিরোধিতা, বিশেষ করে প্রতিবেশী দেশগুলোর প্রভাবের প্রশ্নে। আমরা মর্যাদাপূর্ণ ও সার্বভৌম পররাষ্ট্রনীতি চাই—এই বিষয়গুলোতে আমাদের একটি যৌথ কর্মসূচি রয়েছে।
এই জোট ক্ষমতায় এলে কি বাংলাদেশ ধর্মতান্ত্রিক রাষ্ট্রে পরিণত হবে?
শাসন পরিচালনায় অভিজ্ঞতার অভাব নিয়ে সমালোচনার জবাব কী?
বাংলাদেশের মানুষ নতুন ও তরুণ নেতৃত্ব চায়। বিএনপির মতো তথাকথিত অভিজ্ঞ দলগুলো অতীতে খুব ভালো শাসন দিতে পারেনি। মানুষ ভিন্ন কিছু দেখতে চায়।
জামায়াতকে চরম ডানপন্থী আদর্শের দল বলা হয়—সংখ্যালঘুদের বিষয়ে উদ্বেগ কীভাবে দেখছেন?
শরিফ ওসমান হাদির হত্যাকাণ্ড কি বৃহত্তর জোটে যাওয়ার সিদ্ধান্তে প্রভাব ফেলেছে?
শরিফ ওসমান হাদির হত্যার পর আমরা এই সিদ্ধান্ত নিই, কারণ আমরা দেখেছি বাংলাদেশে আধিপত্যবাদী শক্তি ষড়যন্ত্র করছে এবং জুলাইয়ের নেতাদের হত্যার মাধ্যমে টার্গেট করছে। শুরুতে আমরা এককভাবে নির্বাচন করতে চেয়েছিলাম, কিন্তু এখন এই শক্তিগুলোর মোকাবিলা করা আদর্শগত বিচ্ছিন্নতার চেয়েও জরুরি হয়ে উঠেছে।
যারা এনসিপির কাছ থেকে স্বাধীন রাজনীতি আশা করেছিলেন, তাদের কীভাবে এই জোট ব্যাখ্যা করছেন?
এটি বাস্তব প্রয়োজন থেকে গড়া একটি নির্বাচনী জোট। যদি আমরা আমাদের এজেন্ডা মিত্রদের সঙ্গে বাস্তবায়ন করতে পারি, তাহলে তা দেশের জন্যই মঙ্গলজনক হবে। যদি আমাদের আদর্শিক অবস্থান পুরোপুরি ক্ষতিগ্রস্ত হয়, তাহলে আমরা পুনর্বিবেচনা করব। তবে এই মুহূর্তে জুলাইয়ের শক্তিগুলোর সংসদে প্রবেশ এবং নির্বাচনী রাজনীতিতে টিকে থাকা জরুরি।
দলের ভেতরে সংখ্যাগরিষ্ঠ সমর্থন ছিল। কিছু মানুষ দ্বিমত পোষণ করেছেন। প্রায় ১০ থেকে ১২ জন দল ছেড়ে গেছেন, তাদের মতে সিদ্ধান্তটি তাদের নীতির সঙ্গে সাংঘর্ষিক। আমরা তাদের সিদ্ধান্তকে সম্মান করি এবং এখনো স্বাগত জানাই। এটি সংখ্যাগরিষ্ঠের সিদ্ধান্ত এবং অধিকাংশ সদস্যই সমর্থন দিয়েছেন।
সাবেক এনসিপি নেতাদের কেউ কেউ স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে দাঁড়াচ্ছেন।
আমরা তাদের শুভকামনা জানাই। জুলাইয়ের নেতাদের এক দলেই থাকতে হবে—এমন কোনো বাধ্যবাধকতা নেই। কেউ স্বতন্ত্রভাবে দাঁড়াতে চাইলে তা করতে পারেন।
অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে আপনার ঘনিষ্ঠতা রয়েছে। অন্তর্বর্তী সরকারের কার্যক্রম কীভাবে মূল্যায়ন করবেন?
একটি বড় সাফল্য হলো সংস্কার গণভোটের সূচনা। সরকার অর্থনীতি স্থিতিশীল করার চেষ্টা করেছে, কিন্তু আইনশৃঙ্খলা রক্ষা ও জন-প্রত্যাশা ব্যবস্থাপনায় ব্যর্থ হয়েছে। তবু সংকটকালে নেতৃত্ব দেওয়ার জন্য জাতি সবসময় অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের প্রতি কৃতজ্ঞ থাকবে। প্রত্যাশা অনেক বেশি ছিল, সব পূরণ হয়নি। পুরোনো প্রতিষ্ঠান ও অভিজাত অলিগার্কিক শক্তিগুলো দ্রুত পুনর্গঠিত হয়ে সংস্কারের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়েছে। তারা পুরোনো ব্যবস্থা টিকিয়ে রাখতে চায়। এই লড়াই গণতান্ত্রিক পথে ও অর্থনৈতিক ন্যায়ের জন্য চালিয়ে যেতে হবে।
বিএনপি যদি পরবর্তী সরকার গঠন করে, এনসিপির অবস্থান কী হবে?
জনগণের ম্যান্ডেটের মাধ্যমে গঠিত যেকোনো সরকারকে আমরা মেনে নেব। সংস্কার গণভোট পাস হলে এবং সরকার তা বাস্তবায়ন করলে আমরা স্থিতিশীলতার জন্য সহযোগিতা করব। প্রতিষ্ঠানগুলো ভেঙে পড়েছে, সেগুলো পুনর্গঠন করতে হবে। কে ক্ষমতায় আছে, তার চেয়েও ঐক্য বেশি গুরুত্বপূর্ণ।
ভারতের সঙ্গে ভবিষ্যৎ সম্পর্ককে কীভাবে দেখছেন?
আমরা ভারতের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ ও কার্যকর সম্পর্ক চাই, তবে ভারতকে বাংলাদেশের প্রতি তার নীতি পরিবর্তন করতে হবে। সীমান্ত হত্যাকাণ্ড, পানি বণ্টন বিরোধ এবং রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ বন্ধ করতে হবে। শেখ হাসিনাকে ফেরত আনার বিষয়টি আমাদের নির্বাচনী ইশতেহারের অন্যতম দাবি হবে। যাদের বিরুদ্ধে রায় দেওয়া হয়েছে, তাদের ফিরিয়ে দিলে ভালো সম্পর্ক সম্ভব। অন্যথায় সম্পর্ক জটিল হয়ে উঠতে পারে।



